নোয়াখালীতে ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় ৩ জনের ফাঁসি

সংগৃহীত ছবি
নোয়াখালীতে তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আরও তিনজনকে।
তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে দুই ব্যক্তিকে।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর সানি সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো. সৌরভ (২৭)। যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)।
আজ রবিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে এ রায় দেন নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১ নম্বর অতিরিক্ত আদালতের পিপি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাশেদ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে নোয়াখালী শহরের মাইজদী বাজার এলাকার নোয়াখালী সরকারি পুরাতন কলেজ-সংলগ্ন পুকুরে একটি কুকুরকে গোসল করাতে নিয়ে যান কিশোর রাজীব (২৩)। এ নিয়ে স্থানীয় অনন্তপুর গ্রামের মো. সৌরভের সঙ্গে রাজীবের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় সালিশে বসার কথা ছিল। সন্ধ্যার দিকে রাজীব ও তার দুই বন্ধু ওয়াসিম (২২) ও ইয়াছিন (২৩) নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাস এলাকায় পৌঁছালে সাজু, সুলতান, সৌরভ, কুদ্দুস, ফিরোজ ও বাবুল এবং দুই সহযোগী তাদের ওপর গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই রাজীব নিহত হন এবং তার দুই বন্ধু কয়েক দিন পর হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রাশেদের ভাষ্য, আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি নামে এক আসামিকে আটক করা হয়েছে। বাকি পাঁচ আসামি এখনো পলাতক।
নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বলেছেন, ‘এ রায়ে আলহামদুলিল্লাহ আমি খুব খুশি।’
নোয়াখালী জেলা বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাফাক্তার হোসেন জানান, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে এ রায় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই চলে যান বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন।








