রাজবাড়ীতে জামায়াতকর্মীকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধার নেওয়া টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়।
নিহত আশাদুল ইসলাম (২২) কালুখালী উপজেলার বিল মানুষমারী গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- কালুখালী উপজেলার মদাপুর গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মো. মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মন্ডলের ছেলে মো. আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি মাদ্রাসার পেছনের পাটখেত থেকে আশাদুল ইসলামের হাত বাঁধা অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই তার বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানতে পারে, প্রায় চার মাস আগে আশাদুল ইসলাম গ্রেপ্তার মিজান শেখের কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে আশাদুলকে হত্যা করেন এবং পরে মরদেহে আগুন দেন বলে পুলিশের দাবি।
এ ঘটনার সূত্র ধরে সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে থানা ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ দল মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি রক্তমাখা হেলমেট, একটি স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার মিজান শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে রাজবাড়ী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম ঘটনার রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন, প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




