খানাখন্দে ভরা সড়ক, পৌঁছায় না জরুরি সেবাও

ছবি: আগামীর সময়
সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন বেহাল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা লঞ্চঘাটের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক। প্রতিদিন অন্তত দেড় হাজার মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। ভোগান্তি এখন তাদের নিত্যসঙ্গী। জরুরি সেবার গাড়িও পৌঁছায় না সময়মতো।
বগা লঞ্চঘাটের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাহাবুল মেম্বারের বাড়ি থেকে খান বাড়ি পর্যন্ত সড়কের এ দশা। এর কিছু অংশে ইটের সলিং থাকলেও বেশিরভাগ অংশেই ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় পিচ্ছিল হয়ে যায় রাস্তাটি। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারীদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে কাদা মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় তাদের।
এলাকাবাসীর অভিজ্ঞতা, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে পোহাতে হয় দুর্ভোগ। মাত্র পাঁচ ফুট চওড়া ও ভাঙাচোরা এই সড়কে অ্যাম্বুলেন্স আনতে চান না চালকরা। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে নিয়ে কিংবা বিকল্প উপায়ে হাসপাতালে নিতে হয়।
এক জরুরি অবস্থার ঘটনাও জানালেন স্থানীয়রা। এক বছর আগে এলাকায় ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুড়ে যায় পাঁচটি বসতঘর। তাদের দাবি, সড়কটি চলাচল উপযোগী থাকলে ক্ষয়ক্ষতি হতো কম।
স্থানীয় রুমা বেগম বলেছেন, ‘গর্ভবতীদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। হাসপাতালে নিতে কষ্ট হয়। রাস্তাটা ভালো থাকলে এসব সমস্যা হতো না। বাচ্চারাও ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে যায়। তখন তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়।’
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অপেক্ষায় এলাকাবাসী। তাদের মতে, সড়কটি আরও প্রশস্ত ও টেকসইভাবে নির্মাণ করা হলে দেড় হাজার মানুষের দুর্ভোগ কমবে। জরুরি সেবাও দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরজুরুল হক বলেছেন, ‘আপনার মাধ্যমে সড়কের বিষয়ে জেনেছি। আমাদের ইনভেন্টরিতে যাচাই করেছি। সড়কটি আইডিভুক্ত হয়ে থাকলে দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে। আর আইডিভুক্ত না থাকলে প্রক্রিয়াকরণের আওতায় আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।’



