পর্যটক আকর্ষণে সুন্দরবনে ৩ দিনের বর্জ্য অপসারণ অভিযান

পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই পূর্ব সুন্দরবনের ট্যুরিস্ট স্পটগুলো বর্জ্যমুক্ত রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছেন ট্যুর অপারেটররা। ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবনের (টোয়াস) উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছেন তারা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কটকা এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান।
প্রথম দিনের অভিযানে কটকা অভয়ারণ্য ও পর্যটন এলাকা থেকে বিপুল পরিমান প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত এসব বর্জ্য সংরক্ষণ করে লোকালয় নিয়ে ধ্বংস করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ ও টোয়াস।
উদ্বোধন অমুষ্ঠানে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের আনন্দময় ভ্রমণ ও তাদের আকর্ষণ বাড়াতে বর্জ্য অপসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বক্তৃতা করেন খুলনা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা শামীম রেজা মিঠু, টোয়াসের সভাপতি মইনুল ইসলাম জমাদ্দার, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ জামাল পপলু, দপ্তর সম্পাদক শাহেদ মো. ইমরান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহেদী ইসলাম রকি।
টোয়াসের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেছেন, তিন দিনের কর্মসূচিতে পূর্ব সুন্দরবনের কটকা, কচিখালি, আন্ধারমানিক ও করমজল পর্যটন কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। এ কার্যক্রমে টোয়াসের ৬৫ জন সদস্য রয়েছেন। প্রতি বছর মে ও সেপ্টেম্বর মাসে দুবার এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
টোয়াসের সভাপতি মইনুল ইসলাম জমাদ্দার বলেছেন, সুন্দরবনের সুরক্ষায় সবার এগিয়ে আসতে হবে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা এখন অনেক সচেতন। তাদের বর্জ্য তারা নিজেরাই সংরক্ষণ করেন। সুন্দরবনে যে প্লাস্টি, পলিথিন বা অন্যান্য বর্জ্য দেখা যায়, তা সবই জেলে এবং বনসংলগ্ন এলাকার নদনদীর তীরবর্তী হাটবাজার থেকে ফেলা বর্জ্য। এসবই জোয়ার-ভাটার স্রোতে ভেসে সুন্দরবনে এসে জমা হয়। যত্রতত্র যাতে বর্জ্য ফেলা না হয়, ভবিষ্যতে সে ব্যাপারে লোকালয়েও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে টোয়াসের পক্ষ থেকে।
পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেছেন, সুন্দরবন ক্লিন রাখা বন বিভাগের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এতে সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় টোয়াসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সার্বিক সহযোগিতা করবে বন বিভাগ।
বন বিভাগ ও টোয়াস সূত্র জানায়, প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে কমপক্ষে দুই লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। এসব পর্যটকদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি বজায় থাকলে সুন্দরবনে দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে পর্যটকের সংখ্যা।






