সরাইল
বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের কথা বলে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে নৌকায় দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন কিশোরী। এ ঘটনায় করা মামলায় রাকিব মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা চুক্তির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের ফেসবুক পেজ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য যোগাযোগ করেন রাকিব মিয়া। ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে বৃহস্পতিবার বিকালে তারা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান। পরে দ্রুত বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এরপর দুই নারীকে নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে রাকিবসহ তার সহযোগীরা ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত আটটার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা এলাকায় তিতাস নদীসংলগ্ন ভূঁইয়া ঘাটে নামিয়ে দিয়ে আসামিরা চলে যান।
পরে আইনি সহায়তা নিতে ভুক্তভোগীরা প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় মামলা করেন তারা।
মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, মামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।




