বাঘাইছড়িতে পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যার পর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরেনি। কোথাও কোথাও কমতে শুরু করেছে পানি। তবুও খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্যের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। একই সঙ্গে ফসলি জমি ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতিতে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছে।
বন্যার কারণে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে গবাদিপশুর খাদ্যের। মাঠের ঘাস পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ও খামারিরা গরু-ছাগলের জন্য খাদ্য সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন।
অন্যদিকে, শিশুদের জন্য দুধ ও পুষ্টিকর খাদ্যের সংকটও বেড়েছে। ছোট শিশু রয়েছে এমন পরিবারগুলো দ্রুত শিশু খাদ্য সহায়তার দাবি জানিয়েছে।
বন্যার পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি পুকুর ও মাছের ঘেরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
বিশুদ্ধ পানির সংকটও ক্রমেই বাড়ছে। অনেক নলকূপ পানির নিচে তলিয়ে গেছে বা দূষিত হয়ে পড়ায় নিরাপদ পানীয় পানি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যাকবলিত বাসিন্দা মো. নুর সালাম বলেছেন, বাড়িতে এখনো কাদা আর পানি। খাবারের কষ্ট তো আছেই, গরুর জন্য একমুঠো ঘাসও মিলছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সাবিনা আক্তার জানিয়েছেন, তার ছোট সন্তানের জন্য দুধ ও শিশু খাদ্য সংগ্রহ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়েছে।
কৃষক সালাউদ্দিনের ভাষ্য, তার সবজি ক্ষেত ও ধানের জমি পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চাল, শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিশু খাদ্য সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





