‘কলহের জেরে’ বালিশ চাপা দিয়ে গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী পলাতক

নিহত গৃহবধূর স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আগামীর সময়
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নিজ ঘর থেকে রিনা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয় মরদেহটি।
ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সুমন সরকার পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। সুমন পেশায় রং মিস্ত্রি।
নিহত রিনা একই উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মেয়ে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীরা জানান, ১৪ বছর আগে পারিবারিক ভাবে রিনার বিয়ে হয়। তাদের ১৩ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
তাদের অভিযোগ, কলহের জেরে রিনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী।
সুমনের মা রাফিয়া বেগম বলেছেন, ‘গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে সুমনের সঙ্গে রিনার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানার পর আমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেই। রাতে তাদের মধ্যে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’
‘আজ সকালে সুমনের মেয়ের কান্নাকাটি শুনে তাদের ঘরে গিয়ে রিনার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি। সে কীভাবে মারা গেছে, তা বলতে পারব না,’ বললেন তিনি।
রিনার মা সাকিনা বেগমের অভিযোগ, সুমন মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই রিনাকে মারধর করত। বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও তাকে চাপ দিত। এসব বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে রিনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে সুমন পালিয়ে গেছে।
তিনি বললেন, ‘আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
গজারিয়া থানার এসআই মো. রায়হান জানিয়েছেন, মরদেহের সুরতহাল করে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
গজারিয়া থানার ওসি নকীব আকরাম হোসেনের ভাষ্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।




