রেললাইনের ওপর বাজার দুর্ঘটনার শঙ্কা

যশোরের অভয়নগরের নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের অদূরে নুরবাগ রেলক্রসিং ও এর সংলগ্ন রেললাইনের ওপর প্রতিদিন বসছে বড় কাঁচাবাজার। এই বাজারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেনাকাটা করছেন শত শত মানুষ। ব্যস্ততম এ এলাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।
সরেজমিন দেখা যায়, নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের পাশেই নুরবাগ এলাকায় রেললাইনের দুই পাশ এবং স্লিপারের ওপর সারি সারি সবজি ও মাছের পসরা সাজিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা লাইনের ওপর দাঁড়িয়েই দরদাম করছেন। রেলপথের এমন ব্যস্ততম জায়গায় বাজার বসায় পথচারী ও যাত্রীদের চলাচলেও চরম বিঘ্ন ঘটছে।
আশঙ্কার কথা জানালেন রেললাইনের পাশের দোকানদার শহিদুল ইসলাম। তিনি বললেন, নুরবাগ এলাকায় প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বাজারের ব্যস্ততা থাকে। বিক্রেতারা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রেললাইনকে ফুটপাত বানিয়ে ফেলেছেন। ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে অসচেতনতা এবং রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এ এলাকাটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। রেললাইনে বসা তরকারি বিক্রেতা আব্দুল হান্নানের দাবি, ‘নোয়াপাড়া বাজারের কাঁচাবাজারপট্টিতে বসার জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে আমরা এখানে বসি। মাঝেমধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ আমাদের উচ্ছেদ করে দেয়। পেটের তাগিদে আবারও এখানে বসতে হয়।’
নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের মাস্টার মিন্টু কুমার রায় বললেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী রেললাইনের উভয় পাশে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত কোনো অবৈধ স্থাপনা বা বাজার বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর এখানে চলছে ব্যবসা। এতে একদিকে যেমন ট্রেনের গতি কমিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে চালকদের, অন্যদিকে বাড়ছে প্রাণের ঝুঁকি। ‘অবৈধ বাজার উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও কিছু অসাধু চক্র বারবার তা চালু করছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন’— বললেন এই স্টেশনমাস্টার।




