ছাড়তে হয়েছিল পড়ালেখা, ১৬ বছর পর এইচএসসি দিয়ে পেলেন জিপিএ ৪.১৭

কাউছার হামিদ সকাল
ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর পরিবারের অনুপ্রেরণা থাকলে দীর্ঘ বিরতিও স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না। তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাউছার হামিদ সকাল। পড়াশোনায় দীর্ঘ ১৬ বছরের বিরতি পেরিয়ে আবারও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.১৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
কাউছার হামিদ সকালের বাড়ি রামগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর দরবেশপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বরকন্দাজ বাড়িতে। বাবার নাম হাফিজ আহমেদ এবং মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি একজন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের অনুপ্রেরণা এবং সহযোগিতায় দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও পড়াশোনায় ফিরেছেন তিনি।
কাউছার হামিদ সকাল ২০১০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন রামগঞ্জ সরকারি কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাংলায় অকৃতকার্য হওয়ায় পরের বছর আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। তবে এরই মধ্যে ২০১৩ সালের দিকে কলেজে ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষসহ নানা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে শেষ পর্যন্ত আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি তার।
এরপর কেটে যায় দীর্ঘ সময়। একপর্যায়ে পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গেলেও উচ্চমাধ্যমিক পাস করার স্বপ্নটি মনের মধ্যে রয়ে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঢাকার কদমতলা পূর্ব বাসাবো হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তি হন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বই-খাতা নিয়ে শুরু করেন পড়াশোনা।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.১৭ অর্জন করেন কাউছার হামিদ। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এই ফল তার কাছে বিশেষ আনন্দের।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষের স্বপ্ন পূরণ করা খুব সহজ।’ তিনি জানান, ২০১০ সালে এসএসসি পাস করার পর নানা কারণে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০২৫ সালে আবারও ভর্তি হয়ে এবার সফল হয়েছেন। এ যাত্রায় অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার জন্য পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী দিনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
কাউছার হামিদ সকালের এই অর্জন কেবল একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়; এটি দীর্ঘদিনের অপূর্ণ স্বপ্নকে নতুন করে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদাহরণ। জীবনের নানা ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতায় যাঁরা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গেছেন, তাঁদের জন্যও তাঁর এই সাফল্য নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা হতে পারে।




