রংপুর মেডিকেল
মৃতের ছেলেকে ‘কান ধরে উঠবস’ করানোর পরও ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

রংপুর মেডিকেল— সংগৃহীত ছবি
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই দাবিতে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন।
আজ রবিবার সকাল থেকে ফের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি সেবা সচল রাখার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। শনিবারও তারা বিক্ষোভ ও কয়েক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন।
মরদেহ আটকে রেখে ‘অভিযুক্ত’ ছেলেকে কান ধরে উঠবস করানোর পরও কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন,‘তার মায়ের জানাজা ছিল। তাই তাৎক্ষণিকভাবে মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হয়নি। যেন লঘু দোষে গুরু শাস্তি না হয়, সে কারণে তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। আমরা অতটা অমানবিক নই।’
তিনি আরও বললেন, ‘চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘মব’ তৈরি করে মৃতের ছেলেকে কান ধরে উঠবস করিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার ভোরে রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছেলে রিফাত হোসেন তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের কাছে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করা হলে আগে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তিনি মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো অক্সিজেন না দেওয়ার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে মরদেহ বুঝিয়ে দিতে গড়িমসির অভিযোগ তুলে বেলা দেড়টার দিকে তারা মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পর মৃতের ছেলে রিফাত হোসেন দুই চিকিৎসককে মারধর করেন। হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর মরদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর হাসপাতালজুড়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনা বিরাজ করে।
পরে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেনকে বাসা থেকে ডেকে এনে মায়ের মরদেহ ফেরত দেওয়ার শর্তে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের একটি কক্ষে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এরপর তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।




