পুরনো পাম্পেই চাঁদপুরে বোরোর বাম্পার ফলন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের লুধুয়া এলাকায় ধান মাড়াই করছেন কৃষকেরা। ছবি: আগামীর সময়
৪৫ বছরের পুরনো পাম্প মেরামত করে সচল রাখার মধ্য দিয়েই চাঁদপুরের দুটি বৃহৎ সেচ প্রকল্পে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে বোরো ধানের। জেলার চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ও মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়েছে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ জমির।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, সেচের পানির বড় ধরনের সংকটে পড়তে হয়নি মৌসুম জুড়ে। সময়মতো পানি পাওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে ধানের। তবে মৌসুমের শেষ দিকে শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে কিছু এলাকায়।
সরেজমিনে কৃষক, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ধান ও রবিশস্য উৎপাদনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এ দুটি সেচ প্রকল্প। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সেচ সুবিধার কারণে এবার হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। বর্তমানে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় এবার বোরো আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এলাকায় বোরো চাষ হয়েছে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। সেখানে এখন পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ জমির।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার দেইচর গ্রামের কৃষক আল-আমিন জানিয়েছেন, ৬০ শতাংশের দুটি জমিতে বোরো আবাদ করেছেন তিনি। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।
একই গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেছেন, ‘৪০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি। প্রতি ১০ শতাংশে প্রায় ৮ মণ ধান পেয়েছি।’
মতলব উত্তর উপজেলার নয়াকান্দি এলাকার কৃষক আলী আজম জানিয়েছেন, দুই কানিতে বোরো আবাদ করেছেন তিনি। ধান কাটা শেষ হয়েছে অর্ধেক জমির। তবে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত শ্রমিক ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে অনেক কৃষকের।
একই এলাকার কৃষক মোসলেম ও বাদল খান জানিয়েছেন, পানির সংকট না থাকায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে ধানের। তবে শেষ সময়ে শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতি হয়েছে কিছু ফসলের।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেছেন, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকায় ধানের ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে উৎপাদনের। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা সেচ সংকট থাকলেও পরে পানি পেয়েছেন সব কৃষকই। এরই মধ্যে ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ জমির। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা।
কল্লোল কিশোর সরকার আরও জানান, এ বছর প্রকল্প এলাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৪৪ হাজার ১৫৮ দশমিক ২০ টন চাল।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য, তুলনামূলকভাবে এ বছর আগে পানি পেয়েছেন কৃষকেরা। ফলে বোরো আবাদ ভালো হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও চাষ হয়েছে বেশি জমিতে।
নির্ধারিত সময়ে ধান রোপণ করা গেলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি আরও কমানো সম্ভব হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
দুটি সেচ প্রকল্পের পাম্প রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেছেন, ‘প্রকল্প দুটির পাম্প হাউস প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো। নিয়মিত মেরামতের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে প্রকল্পগুলো। পুরনো যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও কৃষকেরা যাতে সময়মতো সেচের পানি পান, সে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে আমাদের।’





