পটুয়াখালী
তরমুজের বাম্পার ফলনেও লোকসানের ঘানি

ছবিঃ আগামীর সময়
পটুয়াখালীতে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। পানির দরে তরমুজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষতির বোঝা টানতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের দাবি, অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় বিক্রি কমেছে। আর কৃষি অধিদপ্তর বলছে, চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদনের কারণেই বাজারে দামের পতন ঘটেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসে আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় তরমুজ চাষ শুরু হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার ৯৬ হেক্টর বেশি জমিতে এবার তরমুজ আবাদ হয়েছে। গত বছর ২৭ হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪৩২ হেক্টরে।
মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা তরমুজ বিক্রি শুরু করেন, যা এখনও চলমান। তবে বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বিক্রির শুরু থেকেই গরমের তেমন প্রভাব না থাকায় বাজারে চাহিদা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গাবালী উপজেলার তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ী হারুন মৃধা জানান, গত বছর ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৫ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। সেই আশায় এ বছর ৫ লাখ টাকা খরচ করেও ২ লাখ টাকার বিক্রিও করতে পারেননি। ঋণ নিয়ে চাষ করায় এখন দেনা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
গলাচিপা উপজেলার চরকাজল এলাকার কৃষক আবদুর রহমান জানান, তিনি দুই স্থানে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেন। আগাম ফলন থেকে কিছু লাভ হলেও পরে তরমুজ বিক্রি করতে গিয়ে বড় লোকসানে পড়েছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পানির দরে বিক্রি করতে হয়েছে, এতে কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আরও বিপাকে পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে যানবাহন না পৌঁছায় ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে তরমুজ।
গলাচিপার মুহুরীর ঘাটে ট্রাকচালক সজলের সঙ্গে কথা হয়। তার অভিযোগ, ঢাকা থেকে আসতে প্রায় ১২০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হলেও বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে তা সংগ্রহ করতে দুই দিন সময় লাগছে। আগে কয়েক ঘণ্টায় যাতায়াত সম্ভব হলেও এখন বিলম্বে তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
একই ঘাটের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেছেন, ট্রলারে রেখে অনেক তরমুজ পচে যায়। পরে সেগুলো পানিতে ফেলে দিতে হয়, এতে লোকসান বাড়ছে।
আরেক ব্যবসায়ী সোলায়মান প্যাদা জানান, জ্বালানি সংকটে পরিবহন ও ট্রলার খরচ বেড়েছে, শ্রমিক খরচও বেশি। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণেই দামের এই পতন।
পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক এইচ এম শামিম জানান, এ বছর জেলায় প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বেশিরভাগই অর্জিত হয়েছে। গড়ে প্রতিটি তরমুজ ৩০ টাকা দরে বিক্রি হলে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বাজার হওয়ার কথা ছিল।
তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় তরমুজের দাম কমেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
















