ড. খন্দকার মারুফ
‘খাদ্য ঘাটতি পূরণে খাল খনন কর্মসূচির বিকল্প নেই’

ছবিঃ আগামীর সময়
কৃষক পরিবারে সচ্ছলতা ও দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে ‘খাল খনন কর্মসূচি’র নেই কোনো বিকল্প। এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষণখোলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন এসব কথা। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ।
ড. মারুফের আশা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত এই কৃষিবান্ধব কর্মসূচি সেচব্যবস্থায় বয়ে এনেছিল ব্যাপক সুফল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাবে এবং কৃষক পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে।
ড. খন্দকার মারুফ বলেছেন, ‘তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুরু করেছেন ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে প্রবর্তন করেন ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি। এটি একটি কৃষি ও জনবান্ধব প্রকল্প। তিনি (শহীদ জিয়া) স্থানীয় জনগণকে সরাসরি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে চালু করেছিলেন কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি।’
তিনি যোগ করেন, ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের স্বল্প সময়ের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি, দুস্থ পরিবারে সচ্ছলতা দিতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের কল্যাণে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালুসহ অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন গণমুখী উদ্যোগ দেখে দেশের মানুষ খুবই উচ্ছ্বসিত ও আশাবাদী হয়ে উঠেছে।’
‘দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনে নিষ্পেষিত জাতির অগ্রপথিক হয়ে তিনি রাষ্ট্রের হাল ধরেছেন। ইনশাআল্লাহ, তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে দ্রুতই বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে’, বলেছেন খন্দকার মারুফ।
ড. খন্দকার মারুফ জানান, খাল খনন কর্মসূচির ফলে কৃষিকাজে সেচব্যবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া পানির সমস্যা সমাধান হবে এবং তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ।
মেঘনার ইউএনও মৌসুমী আক্তারের সভাপতিত্বে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেঘনা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফখরুদ্দিন রাজি।
ড. মারুফ বললেন, ‘মেঘনায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বালুখেকো, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে মানুষ অতিষ্ঠ, বিরক্ত। এগুলো আর চলতে দেওয়া যায় না। এসব সামাজিক ব্যাধি দমন করতে বর্তমান সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ রক্ষা পাবে না।’
শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সততার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে রাজনীতি করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ড. খন্দকার মারুফ। এর আগে তিনি যোগ দেন মেঘনা উপজেলার লুটেরচর মফিজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকারচর শাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মুগারচর কেরামত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং বার্ষিক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে।
এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা উপজেলা বিএনপি নেতা মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনি, এম এম মিজানুর রহমান, আবু ইউসুব নয়ন, দিলারা শিরীন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, মেঘনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান ভুইয়া, মেঘনা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মাহবুবা ইসলাম মিলি, সাংগঠনিক সম্পাদক লিপি আক্তার মেম্বর ও ছাত্রদলের সভাপতি সোলায়মান হোসেন প্রমুখ।



