সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ, বাঁচার জন্য লড়ছে শিশু ইমরান

সংগৃহীত ছবি
অন্যান্য দিনের মতোই খেলাধুলা করার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিল ১১ বছর বয়সী শিশু ইমরান হোসেন। সেই সময়ে ঝুট ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দে সংঘর্ষ চলছিল যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে। আর এই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয় সে। বর্তমানে জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে লড়ছে শিশুটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ইমরান স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র।
ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের চাঁদনী হাউজিংয়ে ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে ইমরান। তার বাবা আসমাউল হোসেন পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক।
একমাত্র ছেলেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে দেখে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন আসমাউল।
তিনি বলেছেন, ‘সকালে মাদরাসা থেকে ফিরে সাইকেল নিয়ে খেলতে বের হয়েছিল ছেলে। বাইরে সংঘর্ষ্ দেখে দেখে বাসায় ফেরত আসার পথে বাসার গেটের সামনে গুলিবিদ্ধ হয় ইমরান। আমার মতো খেটে খাওয়া লোকের এত বড় ক্ষতি সামলে নেয়ার ক্ষমতা নাই।’
আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় ইমরানকে। পরে নেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। পরবর্তীতে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।
হাসপাতালে তার সাথে থাকা বড় বোন ইসা মনি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, ‘ইমরানের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। ইতোমধ্যে ৮ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে তাকে। চিকিৎসকরা বলেছেন পেটের বাম পাশে গুলি লাগায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। অস্ত্রোপচার করে গুলিটি বের করা হলেও কোন আশ্বাস দিতে পারেননি তারা।’
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট’ নামের একটি কারখানার ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীদের সঙ্গে এ নিয়ে বিরোধ চলছিল যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারীদের।
সংষর্ষের ঘটনায় ইমরানসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকজন পথচারী।
নারায়নগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, 'কোন পক্ষ গুলি চালিয়েছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

