শজিমেক হাসপাতাল
রোগীর মৃত্যুতে স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ, আহত ১২

সংঘর্ষের খবর পেয়ে গতকাল রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায় পুলিশ। সংগৃহীত ছবি
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শজিমকে হাসপাতালের ৭ম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। পরে দিবাগত রাত ৩টার দিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে ৬ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে চারজন ছাত্রদলের নেতা।
হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা এবং ১৮নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম (২৬), যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত (২২), সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব (১৮), ফুলবাড়ী উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ও ১৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্না শেখ ওরফে এসএম সিহাব (১৮), নামাজগড়ের বিপ্লব সরদার(২৬) এবং নিশিন্দারা তানভীর শেখ (২৬)।িইন্টার্ন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা জানান, বগুড়া শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫৫) শ্বাসকষ্ট নিয়ে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে চিকিৎসক তাকে একটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, অন্য রোগীর জন্য নির্ধারিত ইনজেকশন মালেককে দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, মালেকের মৃত্যুতে স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে তারা দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের ওপর হামলা করেন। এ সময় আজরাফ ইসলাম অর্ক নামে আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাকে বাঁচাতে এলে হামলার শিকার হন। পরবর্তীতে মেডিকেলের অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন। দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। রোগীর স্বজনদের পক্ষে ১০-১৫ জন বহিরাগতও চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন বলে তারা অভিযোগ করেন। এতে আজরাফসহ ৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন।
তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষনিকভাবে জানাননি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
স্বজনরা জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগির ৬ স্বজনকে আটক করেন। প্রায় ৩ ঘণ্টা আটক থাকার পর পুলিশ গিয়ে ওই ৬ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তবে তাদের আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঋতু মণ্ডল স্নিগ্ধ নামের ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত ৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাদের হাড় ভেঙ্গে গেছে। এখনও নিশ্চিত না কার অবস্থা কতটা গুরুতর। পরে বিস্তারিত জানাবো। তবে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। আমাদের কর্মসূচি ও দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বুধবার জানাব।’
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর এ মুর্শেদ বললেন, ‘এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা খুবই ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের কিছু দাবি আছে। আমরা সেগুলো সংশ্লিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছি।’
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানিয়েছেন, মালেক নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে যায় পুলিশ। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা করেছে এবং তারা ৬ জনকে হাসপাতালের ভেতরে আটকে রেখেছেন।
ওই ছয় জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে চারজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ থাকায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন ওসি।








