পটুয়াখালী
বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার পদ্ম গোখরা সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত

প্রায় চার ফুট লম্বা একটি বিষধর পদ্ম গোখরাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা পৌরসভার একটি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে প্রায় চার ফুট লম্বা একটি বিষধর পদ্ম গোখরা। সেটিকে জীবিত উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চলে।
মঙ্গলবার বিকেলে কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরিমল চন্দ্রের বাড়িতে সাপটি দেখা গেলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খবর পেয়ে বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা এবং পটুয়াখালী প্রাণীপ্রেমী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিচালনা করেন উদ্ধার অভিযান। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাপটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমলেও সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হয়। পরে সাপটিকে গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ সমিতির কুয়াকাটা দলের সদস্য কে এম বাচ্চু বলেন, ‘লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে বন বিভাগ বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। প্রতিটি বন্যপ্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটার সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে অকারণে বন্যপ্রাণী হত্যা অনেক কমে আসবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করছি।’
পটুয়াখালী প্রাণীপ্রেমী দলের সদস্য রাকায়েত আহসান জানান, উদ্ধার অভিযানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। পরে সাপটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে, যাতে এটি নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সাপসহ সব বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত। তাই লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে সেটিকে না মেরে বন বিভাগ অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’




