মাছ ধরা বন্ধ এক মাস, জীবিকা সংকটে হাওরের জেলেরা

সংগৃহীত ছবি
হাওরে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রথম বারের মতো এক মাসের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। গেল মাসের ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত চলবে এই নিষেধাজ্ঞা। এ সময় ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছ রক্ষায় সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে।
পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের এই উদ্যোগের সঙ্গে জেলেদের জন্য কোনো প্রণোদনা বা খাদ্য সহায়তার ঘোষণা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাছ ধরার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট মৎস্যজীবীর সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৯২ হাজার ১৬৯ জন। জেলায় বছরে মাছ উৎপাদন হয় ১ লাখ ১৭৭ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা ৫৬ হাজার ৩৭২ মেট্রিক টন হলেও উদ্বৃত্ত থাকে ৪৩ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন মাছ। দেশের মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও হাওরাঞ্চলের জেলেরা এখন জীবিকা নিয়ে চরম রয়েছেন অনিশ্চয়তায়।
হাওরপাড়ের জেলেদের অভিযোগ, মাছের প্রজনন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তাদের বিকল্প আয়ের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে এক মাস কর্মহীন থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। অনেক জেলে পরিবার দৈনিক মাছ বিক্রির আয়ের ওপর নির্ভরশীল। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে তাদের সংসারে নেমে আসবে খাদ্য সংকট।
ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের বাসিন্দা মৎসজীবী আব্দুস সোবাহান জানালেন, ‘টগার হাওরে শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষ, আর বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। সরকার মাছের প্রজনন রক্ষায় আইন করেছে, এটা ভালো উদ্যোগ। তবে মাছ ধরা বন্ধ রাখার পাশাপাশি আমাদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে। তা না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।’
‘অনেক পরিবার আছে, যাদের ঘরে ধান নেই, চালও নেই। এবারের ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে তাদের জীবন-জীবিকা সংকটে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে অনেককে হয়তো এলাকা ছেড়ে অন্যত্র কাজের সন্ধানে যেতে হবে।’
জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যজীবী মো. আনোয়ার হোসেনের মতে, ‘সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিভিন্ন সময় সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে থাকে। ধান চাষের মৌসুমেও কৃষকরা নানা ধরনের সরকারি সুবিধা পান। কিন্তু জেলেদের জন্য তেমন কোনো সহায়তার ব্যবস্থা আমরা কখনো দেখিনি। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এক মাসের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এটি ভালো উদ্যোগ। তবে এই সময়ে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আল-মিনান নূরের ভাষ্য, ‘হাওরাঞ্চলে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মতো এক মাসের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলেদের জন্য কোনো প্রণোদনা বা খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে কর্মসূচিটি সফল হলে আগামী বছর থেকে জেলেদের জন্য প্রণোদনার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’




