পানি সংকটে পাট জাগে বাড়ছে কৃষকের খরচ

পাট কেটে জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
বর্ষা মৌসুমেও পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় পাট জাগ দিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। ক্ষেত থেকে পাট কেটে কয়েক কিলোমিটার দূরের খাল, নদী বা জলাশয়ে নিয়ে জাগ দিচ্ছেন অনেকেই। এতে আগের থেকে দ্বিগুণ বেড়ে গেছে পরিবহন ব্যয় ও শ্রম খরচ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৪৫৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৪৬১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের সম্ভাবনা ভালো থাকলেও জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানির অভাব এখন কৃষকদের প্রধান দুশ্চিন্তা।
আজ শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পরিপক্ব পাট এখনো ক্ষেতে দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও কাটা পাট জমির পাশে, রাস্তার ধারে বা খাল-বিলের পাড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অনেকেই অল্প পানিতে কোনো রকমে পাট জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অধিকাংশ কৃষক পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন দূরের জলাশয়ে।
বালিয়াটি ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের কৃষক মো. রাজা মিয়া বললেন, ‘আগে বর্ষার সময় জমিতেই পর্যাপ্ত পানি জমত। তখন ক্ষেতেই পাট জাগ দেওয়া যেত। এখন বৃষ্টির পানি ছাড়া জমিতে পানি থাকে না। তাই খালে নিয়ে গিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’
বালিয়াটি এলাকার কৃষক জিয়াউর রহমান ৩৩ শতাংশ জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি জানান, ফলন ভালো হলেও শুধু পাট জাগ দেওয়ার স্থানে পরিবহনের জন্য ভ্যান ভাড়া বাবদ প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
উত্তর কাওন্নারা গ্রামের কৃষক আনোয়ার ৩০ শতাংশ জমির প্রদর্শনী প্লটে পাট চাষ করেছেন। তার ভাষ্য, পর্যাপ্ত পানি না থাকায় জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতেই পাট জাগ দিতে হয়েছে। এতে আঁশের রঙ আশানুরূপ হয়নি। তাই বাজারে ভালো দাম পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।
পশ্চিম কাওন্নারা গ্রামের কৃষক মো. আমিনুর মিয়া বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাটের আঁশের রঙ ভালো হয়নি। সাদা ও উজ্জ্বল আঁশের পাটের দাম বেশি পাওয়া যায়। এবার রঙের কারণে দাম কম পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সাটুরিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক কৃষককে অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। তবে যেসব খাল, ডোবা ও জলাশয়ে পানি রয়েছে, সেখানে পাট জাগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’
সাটুরিয়া উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে এবং বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জাগ দেওয়ার সময় পানির সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি উপজেলার একটি খাল পুনঃখনন করায় সেখানে অনেক কৃষক পাট জাগ দিতে পারছেন। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি খাল পুনঃখনন করা হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





