নারায়ণগঞ্জে উন্মেষের উৎসবে মুগ্ধতা ছড়ালেন কাঙালিনী সুফিয়া

ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জে উন্মেষ সাংস্কৃতিক সংসদের ৩৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর ছিল উৎসবস্থল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। এবারের আয়োজন উৎসর্গ করা হয় সুজল রায় চৌধুরী বিকু ও তিলক চৌধুরীকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ফুল পাখি পাঠশালা’র নৃত্য পরিবেশনা এবং পরে উন্মেষের শিল্পীদের পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মঞ্চ। মাগরিবের নামাজের বিরতির পর শুরু হয় শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা পর্ব।
এ সময় কাঙালিনী সুফিয়াকে উত্তরীয় পরিয়ে, ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্মারক তুলে দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। উত্তরীয় পরিয়ে দেন বিশ্বজিৎ বসাক, ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের সভাপতি ড. ফরহাদ আহমেদ জেনিথ এবং স্মারক তুলে দেন সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ। দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। অনুষ্ঠানে কাঙালিনী সুফিয়ার কন্যা পুষ্পসহ বাউল শিল্পীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা গ্রহণের পর বক্তব্যে কাঙালিনী সুফিয়া বলেছেন, বাউল, নজরুলগীতি কিংবা আধুনিক গান, সব ক্ষেত্রেই দেশে শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়নের অভাব রয়েছে। এটিই শিল্পীদের দুর্দশার অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে একাধিকবার আসার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার এবং আবারও এখানে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
নিজের নাম ‘কাঙালিনী সুফিয়া’ হওয়ার পেছনের গল্পও তুলে ধরেন এই শিল্পী। তার ভাষ্য, বিদেশ সফরের সময় নাম নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতেই তিনি এই নাম গ্রহণ করেছিলেন। পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের আরও মনোযোগ কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘সবার উপরে মানুষ’ দর্শনকে সামনে রেখে তরুণ ও শিশুদের সংস্কৃতি চর্চায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সংস্কৃতির ওপর হামলা ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
পরে মঞ্চে পাঠ করা হয় কাঙালিনী সুফিয়ার জীবনী। এ সময় নাট্যকর্মী পারভিন সুলতানা চম্পা, সংগঠক মিতু দেবনাথ মায়া, শিপ্রা সাহা এবং নৃত্যশিল্পী আদম চৌধুরীকে সংগঠনের ৩৬ বছরের পথচলায় অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত সংগীত, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন বিভাগে মোট ৫৫ জন প্রতিযোগী পুরস্কার লাভ করেন।
পরে ‘গুরু-শিষ্য’ শিরোনামে পালাগান পরিবেশন করেন কাজল দেওয়ান ও তার দল। সবশেষে গান পরিবেশন করেন কাঙালিনী সুফিয়া। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।






