আজমিরীগঞ্জ
বন্যায় ফসল নষ্ট, ঋণ-সুদের চাপে কৃষকের আত্মহত্যা চেষ্টা

সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ঋণের সুদের চাপ ও পাওনাদারদের হয়রানি সইতে না পেরে ধনু দাস (৫৫) নামে এক প্রান্তিক কৃষক কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা চেষ্টা করেছেন। আজ সোমবার সকালে উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ধনু দাস সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সুপ্রশন্ন চক্রবর্তীর মাধ্যমে আজমিরীগঞ্জ পৌর শহরের কামাল মিয়ার কাছ থেকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে লাভসহ প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। গত বছরের অগ্রহায়ণ মাসে পুনরায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। কিন্তু চলতি বৈশাখ মাসের বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।
তার ভাষ্য, এরপর থেকেই পাওনাদারদের চাপ ও নির্যাতন বাড়তে থাকে। কয়েক দিন আগে কামাল ও সুপ্রশন্ন তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ মাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখান।
গতকাল রবিবার রাতে বদলপুর বাজারে তাকে আটকে রেখে ঋণের টাকার জন্য মারধরও করা হয়। এই অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে তিনি পরিবারের অগোচরে কীটনাশক পান করেন।
ধনু দাস অভিযোগ করেন, ঋণ নেওয়ার সময় ধাপে ধাপে সুপ্রশন্নকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মদ কিনে দিতে হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল মিয়া দাবি করেন, ধনু দাস বাড়ি বন্ধক রেখে তার কাছ থেকে হাঁসের বাচ্চা ও খাদ্য বাকিতে নিয়েছিলেন এবং বর্তমানে তার কাছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা পাওনা। তিনি কেবল পাওনা টাকা চেয়েছেন, কোনো দুর্ব্যবহার করেননি।
ধনু দাসের ছেলে রৌদ্র দাস বলছিলেন, তার বাবা কখনো হাঁসের খামার করেননি। কামাল মিয়ার দাবি অনুযায়ী হাঁসের বাচ্চা ও খাদ্য বাকিতে নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তার বাবা ভিটাবাড়ি কিনেছিলেন। পাশাপাশি চার কিয়ার জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। তবে সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
এদিকে কামাল মিয়ার পক্ষে পাওনা আদায়ের কাজ করার কথা স্বীকার করলেও মারধর, অপমান কিংবা মদ নেওয়ার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন সুপ্রশন্ন চক্রবর্তী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন।




