কালকিনি
সরকারি বরাদ্দে নয়, স্থানীয়দের হাতেই ফিরল ভাঙা কালভার্টের ‘প্রাণ’

মানবিক উদ্যোগে আবারও সচল হতে শুরু করেছে বহুল ব্যবহৃত সড়ক, ছবি : আগামীর সময়
প্রায় তিন বছর ধরে ভাঙা একটি কালভার্ট দুই গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগের ছবি হয়ে উঠেছিল। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও মিলছিল না সমাধানের পথ। শেষ পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে এগিয়ে এলেন কয়েকজন সমাজসেবী। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে আবারও সচল হতে শুরু করেছে বহুল ব্যবহৃত সেই সড়ক।
আজ রবিবার সকালে মাদারীপুরের কালকিনির রমজানপুর ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর পূর্ব চর আইরকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের ভাঙা কালভার্টে চলছিল সংস্কারকাজ। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ব্যস্ত সময় পার করেন শ্রমিকরাও।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে অতিরিক্ত ভারবাহী অবৈধ মাহিন্দ্রা ট্রলি চলাচলের কারণে কালভার্টটির মাঝের অংশ ধসে পড়ে। এরপর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ রমজানপুরের সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটি অচল হয়ে যায়। বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পার হতে হতো পথচারীদের। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং অসুস্থ রোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি হাওলাদার বললেন, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। রিকশা-ভ্যানও চলতে পারত না। অবশেষে স্থানীয় কয়েকজন নিজেদের অর্থায়নে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
সংস্কার কাজে অর্থায়নকারী সমাজসেবী রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ জানালেন, এটি কোনো প্রচার বা প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। প্রতিদিন শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখে বিবেকের তাড়না থেকেই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সমাজের সবাই যদি শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের অবস্থান থেকে জনকল্যাণে এগিয়ে আসেন, তাহলে অনেক সমস্যারই দ্রুত সমাধান সম্ভব।
পথচারী ইব্রাহীম উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ শুধু একটি কালভার্ট সংস্কার নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যারা এগিয়ে এসেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন বললেন, এলাকার লোকজনেরা একটা দৃষ্টান্ত উদাহরণ দিয়েছেন। তারা নিজের উদ্যোগে যে কাজটি করেছে এটা আসল প্রশংসনীয়।
সংস্কারকাজে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ নিজ নিজ এলাকার ছোট ছোট জনদুর্ভোগ দূর করতে এগিয়ে এলে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক অংশগ্রহণই পারে একটি এলাকার বাস্তব পরিবর্তন আনতে।




