বোরোর পর সবজিতেও ভয়াবহ ক্ষতি, নষ্ট হয়েছে ১৪১ হেক্টর জমি

ছবি: আগামীর সময়
টানা অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় কিশোরগঞ্জ জেলায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন সবজি চাষিরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার শত শত বিঘা জমির সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, করলা, ঢেঁড়স, বরবটি ও মরিচের আবাদ।
কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক দফা ভারী বৃষ্টি ও জমে থাকা পানির কারণে গাছের গোড়ায় পচন ধরে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জমিতে ফলন আসার আগেই গাছ মরে গেছে। কোথাও কোথাও কৃষকরা বাধ্য হয়ে ক্ষেত পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছেন।
সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের কাশোরারচর গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন তিনি। বাড়ির সামনে ৪০ শতাংশ জমিতে মরিচের চাষ করেছিলেন। একবার মরিচ বিক্রি করতে পারলেও পরে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। এতে তার বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।
একই গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া উল্লেখ করেছেন, ৫৫ শতাংশ জমিতে চালকুমড়ার চাষ করেছিলেন তিনি। ফলন আসতে শুরু করলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে গাছ মরে যায়। তার ভাষ্য, বাগানের বাঁশ, সুতা, বীজ ও ওষুধসহ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু কাশোরারচর গ্রামেই প্রায় ৫০ জন কৃষকের ২০ একর জমির সবজি বাগান নষ্ট হয়েছে। কুমড়াজাতীয় ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলার নন-হাওর এলাকার ৪৪৪ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪১ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এ বছর জেলায় ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে। এতে যুক্ত ছিলেন প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ জন কৃষক।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। রবি মৌসুম শুরুর আগেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতিবৃষ্টিতে সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুমড়াজাতীয় ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।





