সাভার-আশুলিয়া
সংঘর্ষের পর ২৬৪ পোশাক কারখানায় ছুটি

ছবি: আগামীর সময়
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্তকরণ বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকার অন্তত ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার বিকেলে শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া ২৬৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, ছাঁটাই বন্ধ ও কালো তালিকাভুক্তকরণ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক শ্রমিকরা। সকালে শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, নিশ্চিন্তপুর এলাকার 'নিউ এজ' পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানার ভেতর প্রবেশ করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরবর্তীতে তারা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে এসে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে জড়ো হতে থাকেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন, অনন্ত গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
কারখানা ছুটি হওয়ার পর উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে নরসিংহপুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারী গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড ও জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজসহ বেশ কয়েকটি কারখানার সামনে সংঘর্ষ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুই পোশাক শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় ২৬৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




