লিবিয়ায় গিয়ে খোঁজ নেই তিন বছর, উৎকণ্ঠায় শার্শার পাঁচ তরুণের পরিবার

সংগৃহীত ছবি
ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে লিবিয়ার পথে পাড়ি জমান যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ তরুণ। তিন বছর আগে দেশ ছাড়লেও পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।
স্বজনদের অভিযোগ, এ সময় তাদের সন্ধান তো মেলেইনি, উল্টো জমি বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করতে হচ্ছে। নিখোঁজ তরুণরা হলেন শার্শার ধানখোলা গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত, আনোয়ার হোসেন, রানা হোসেন, শাহিন আলম ও মেহেদী হাসান। তাদের স্বজনদের অভিযোগ, লিবিয়ায় পাঠানোর কথা বলে একই গ্রামের সোহাগ তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯-১২ লাখ টাকা করে নেন।
স্বজনদের ভাষ্য, বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় সোহাগের বাবা ও বোনের হাতেও টাকার একটি বড় অংশ তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শুরুতে সোহাগ যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, টাকা ফেরত দেওয়া এবং দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও পরে তিনিও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
শাহিন আলমের মা আমেনা বেগম বললেন, ‘স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান দিতে পারেননি। পরে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে যেতে শুরু করেন।’
শুধু শার্শার এই পাঁচ তরুণই নন, একই সময়ে লিবিয়ায় যাওয়ার পথে আরও কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি মানবাধিকারকর্মী নজরুল ইসলামের। তার ভাষ্য, নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের আরও অন্তত ৩৫ জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন।
পাঁচ তরুণের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শার্শা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সরকার জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা।






