ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই দুই উপজেলার মানুষের ভরসা

প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে জোলাগাতি খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হয় দুই উপজেলার মানুষ। ছবি: আগামীর সময়
পিরোজপুরের কাউখালী ও ভান্ডারিয়া উপজেলার মানুষের ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। জোলাগাতি খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন শত শত মানুষ। একই পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও।
সাঁকোটি কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ৯ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম জোলাগাতি গ্রামের মাল বাড়ি জামে মসজিদের সামনে জোলাগাতি খালের ওপর নির্মিত।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাঁকোটি কাউখালীর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। এই পথ দিয়ে সরদার হাট হয়ে অল্প সময়ে ভান্ডারিয়ায় পৌঁছানো যায়। তাই প্রতিদিন এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা সাঁকোটি ব্যবহার করেন।
স্থানীয়রা জানায়, বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বেড়ে গেলে বাঁশের সাঁকোটি পানিতে তলিয়ে যায়। তখন চলাচল চরম দুর্ভোগে পড়ে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে এবং সাধারণ মানুষকে জরুরি কাজে যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের কাছে একাধিকবার দাবি জানিয়েও তারা সেতু নির্মাণসহ প্রত্যাশিত উন্নয়ন পাননি। তাই বর্তমান পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুরের হস্তক্ষেপে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘দুই উপজেলার মানুষের জন্য সাঁকোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে এটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।’
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’





