ডাকাতি করতে এসেই কি রংপুরে ৪ জনকে খুন

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আগামীর সময়
ঘরে আলমারি ভাঙা, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে গয়নার বাক্স। এসব ডাকাতির ঘটনা বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুলিশেরও সন্দেহ তাই। তবে ডাকাতি করতে এসেই কি চারজনকে খুন করা হলো, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। চিহ্নিত হয়নি অপরাধীরাও।
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনের লাশ শনিবার রাতে উদ্ধার করা হয় তাদের ঘর থেকে। রংপুর মহানগর পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তাদের খুন করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের গলায় দড়ি পেঁচানো রয়েছে। তাদের পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটা ডাকাতি হতে পারে।’
নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি দোতলা ভবনে পরিবার নিয়ে থাকতেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫)। সেখানেই তিনি, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১২) এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর (২৫) লাশ পাওয়া যায়।
নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে ফোন দিয়ে প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে পাচ্ছিলেন না তার বোন পূজা চক্রবর্তী। শনিবার রাতেও ফোন করেছিলেন। বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে একে একে বোনের স্বামী, তাদের মেয়েকেও ফোন করেন। কিন্তু সবার ফোনই বন্ধ পেয়ে বাসায় এসে দেখেন ঘরে তালা লাগানো, ভেতরে জিনিসপত্র এলোমেলো। তখন ডাকা হয় পুলিশ। এরপর চারজনের লাশ পাওয়া যায়।
দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বলছেন, এটি পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনা। দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে থাকা টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার জায়গা ভেঙে সবকিছু তছনছ করে লুটপাট চালিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দু-তিন দিন আগে। গলায় রশি বা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাদের। খুনিরা বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। দোতলায় সম্প্রতি পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করেছিলেন তিনি। বাড়ির নিচতলাটা ফাঁকাই। তারা নতুন এসেছেন বলে এখনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠেনি।
গণপতির বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। খবর পেয়ে সেখান থেকে ছুটে এসেছেন তার বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর স্ত্রী শেফালী চক্রবর্তী। গণপতির সঙ্গে কারও কোনো বিরোধের খবর তার স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
পূজা চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তাদের সবাইকে এভাবে মেরে ফেলল কারা। আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কী! আমরা চাই, এর সুষ্ঠু বিচার হোক।’







