কাজ শেষের আগেই পাউবোর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ধস, হুমকিতে স্কুল-বাঁধ

কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ধস— আগামীর সময়
কুড়িগ্রাম সদরের ধরলা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের চলমান কাজে ব্লক পিচিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। এতে তীরবর্তী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, স্থানীয় বসতি ও আবাদি জমি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। ধস ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হলোখানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাটকালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ধরলা নদীর বাম তীর সংরক্ষণের চলমান প্রকল্পে ব্লক পিচিং, জিও ব্যাগ ও অন্যান্য ডাম্পিং সামগ্রীর প্রায় ৫০ মিটার অংশ ধসে যেতে শুরু করেছে। চলমান বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি আরও বাড়লে তীর এবং নিকটবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও বাস্তবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তা নিয়ন্ত্রণ করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। টাকার বিনিময়ে কিছু বখাটে যুবককে পাহারায় রেখে যেনতেনভাবে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। ফলে তীর সংরক্ষণের কাজটি টেকসই হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর ও আপেল জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোর থেকে তীর সংরক্ষণ কাজের ব্লক ধসে যাওয়া শুরু করে। কাজের মান ভালো হলে শেষ করার আগে এভাবে ব্লক ধসে যেতো না। এভাবে সরকারের টাকার অপচয় হচ্ছে কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না। পাউবোর উচিত সঠিক তদারকি করা যাতে কাজটি টেকসই হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটির কাজ এখনও চলমান। ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পটি হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এর মধ্যেই নদীর তলদেশে আকস্মিক গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডাম্পিং সামগ্রীসহ সারিবদ্ধভাবে বসানো ব্লক ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিও ব্যাগ ফেলছে। বর্ষা মৌসুম শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হবে।
পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বললেন, ‘তীর সংরক্ষণ কাজটি এখনও চলমান। হঠাৎ ধস দেখা দিয়েছে। ধস ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে তীরের নিচের অংশে ব্লক ও জিও ব্যাগ নতুন করে ডাম্পিং করে প্রতিরক্ষা কাজটি যথাযথভাবে সংস্কার করে নেওয়া হবে।’
কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘নদী গতিশীল। পানির প্রবাহের কারণে এর নিচে হঠাৎ করে ধারণার চেয়েও বেশি গর্ত তৈরি হতে পারে। ওই স্থানে হয়তো তেমনি আকস্মিক বড় গর্ত হয়েছে। ফলে ডাম্পিং সামগ্রীসহ পিচিং করা ব্লক দেবে গেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।’





