সুস্থ বাঘিনী সুন্দরবনে ফিরবে এ মাসেই
- গলায় থাকবে স্যাটেলাইট রেডিও কলার

প্রায় ৬ মাসের চিকিৎসায় পরিপূর্ণ সুস্থ বাঘিনী পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাজকীয় ভঙ্গিতে। আগামীর সময়
পূর্ব সুন্দরবনে শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়ে গুরুতর আহত বাঘিনী এখন পুরোপুরি সুস্থ। প্রায় ১০ বছর বয়সী এই বাঘটি রয়েছে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সেখানে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে চলতি মাসেই আবাসস্থল সুন্দরবনে ছাড়ার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। তবে এবার এর গলায় থাকবে স্যাটেলাইট-সংযুক্ত রেডিও কলার, যাতে বনকর্মী ও গবেষকরা বাঘিনীর অবস্থান, চলাফেরা, শিকার ধরার সক্ষমতা এবং আচরণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
গত ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি। ট্রাঙ্কুলাইজিং বন্দুকের মাধ্যমে অচেতন করে উদ্ধার করা হয় একে। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকার কারণে সামনের বাঁ পায়ের প্রায় তিন ইঞ্চি অংশের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেখানে সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ধারাবাহিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, চিকিৎসার পর বাঘিনীটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। ফিরে এসেছে তার শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক আচরণ। তাই বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তাকে যে এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানেই করা হবে অবমুক্ত।
‘আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) থেকে একটি স্যাটেলাইট রেডিও কলার পাওয়ার কথা। সেটি হাতে পেলেই বাঘিনীর গলায় স্থাপন করে নির্ধারণ করা হবে অবমুক্তির চূড়ান্ত দিনক্ষণ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বাঘিনীটি বনে ফিরে কেমন আছে, কোথায় চলাচল করছে কিংবা শিকার করতে পারছে কি না, এসব তথ্য পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে’— বলেন রেজাউল করিম চৌধুরী।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ মনে করেন, একটি সুস্থ বাঘকে দীর্ঘদিন খাঁচায় আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে পুনরায় লোকালয়ে চলে আসার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে স্যাটেলাইট কলার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বাঘিনীর গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা যাবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে সুন্দরবনের জন্য এখনো শিকারিদের ফাঁদ বড় হুমকি। ড. এম এ আজিজের মতে, শুধু উদ্ধার ও চিকিৎসা নয়, শিকার প্রতিরোধেই গুরুত্ব দিতে হবে সবচেয়ে বেশি। এজন্য বন বিভাগের নজরদারি বাড়ানো, বনের ভেতরে নিয়মিত হেঁটে টহল জোরদার করা এবং বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা পরিত্যক্ত ফাঁদ দ্রুত অপসারণ জরুরি।




