বন্যার পানি কমেনি এখনো, ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৭ লাখ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পানি, ছবি : আগামীর সময়
চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টানা বৃষ্টির রেশ শুক্রবার কিছুটা কমলেও বন্যার পানি এখনো কমেনি। বিশেষ করে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর পরিস্থিতি বেশি সংকটাপন্ন। জেলার প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার পরিবার বন্যার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, এখন পর্যন্ত বন্যায় সাড়ে ৭ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১০ জন। এর মধ্যে শুক্রবার বাঁশখালীতে বানের পানিতে ভেসে গেছে দুই শিশু। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং সাতকানিয়া-বান্দরবান সড়কে পানি ওঠে। কক্সবাজার সড়কে যান চলাচল করলেও বান্দরবানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আজ শুক্রবার সাতকানিয়ার বিভিন্ন দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিনি বলেছেন, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অনেকাংশ পানির নিচে রয়েছে। বিশেষ করে সাতকানিয়া ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে সব কয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বলতে গেলে শতকরা ৯০ ভাগই এখন পানিতে নিমজ্জিত। আর চার লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। সরকার বন্যার সার্বিক বিষয়ে অবগত রয়েছেন।
এরই মধ্যে ৩০০ টন চাল ও ৪৩ লাখ টাকা দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া, আরও ১৭ লাখ টাকা ও ৪০০ টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রাম মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাও আক্রান্ত হয়েছে। তিন-চার দিন ধরে বিভিন্ন উপজেলায় পানি উঠেছে। দক্ষিণের উপজেলাগুলোয় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলও ছিল।
সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়ার অনেক এলাকায় এখনো লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। এ ছাড়া, বিভিন্ন বড় ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন লোকজন। তাদের মধ্যে শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার পানি বিতরণ করা হয়েছে। তবে পানির কারণে সব জায়গায় খাবার ও ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাতকানিয়া সদরের আবদুল বাসেত ও তাদের পরিবার তিন দিন ধরে পানিবন্দি ছিলেন। আজ থেকে পানি কিছুটা নামতে শুরু করেছে। তারা এবং আশপাশের বিভিন্ন পরিবার এতদিন খাবার কষ্টে দিনাতিপাত করেছে।
আবদুল বাসেত জানিয়েছেন, তারা পাশের স্কুলে গিয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু নারী ও শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রে বেশি কষ্টে ছিল। খাবার ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। তিন দিন পর আজ পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরতে শুরু করেছে তারা।




