‘গুপ্তলীগের গুপ্ত মিছিল’ প্রতিহত করার আহ্বান ছাত্রদলের

ছবি: আগামীর সময়
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। এতে প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মী অংশ নেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগকে ‘গুপ্তলীগ’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনটির ‘গুপ্ত মিছিল’ প্রতিহত করতে নগরবাসী ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
‘ষড়যন্ত্রকারীদের দিন শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে নগরীর লালখান বাজার মোড় থেকে আজ বুধবার (৩ জুন) সকালে মিছিল বের হয়।
নেতাকর্মীরা ওয়াসা, জিইসি, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, মুরাদপুর হয়ে বহদ্দারহাট পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যান। মিছিলে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে।
মিছিলের ব্যানারে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, খুলশী ও হালিশহর) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের ছবি ছিল। মিছিলে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মিঠু ও সদস্য কামরুল হাসান আকাশ।
গত সোমবার নগরীর জিইসি মোড়ে শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল হয়। হঠাৎ ছাত্রলীগের ‘বড় মিছিল’ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা ফেসবুকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হলে বিশেষ অভিযান শুরু করে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে ফেসবুকে সরব থাকলেও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল কিংবা অন্য কোনো সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতার বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
শুধুমাত্র সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশে একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে বলে জানালেন ছাত্রদল নেতা আরিফুর রহমান মিঠু।
তার মতে, ‘ছাত্রলীগ এখন গুপ্তলীগে পরিণত হয়েছে। গুপ্ত সংগঠনের মতো গুপ্ত মিছিল বের করে। কিন্তু নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কোনো ক্ষমা নেই। তাদের যে কৃতকর্ম, হাজার শিক্ষার্থীকে তারা হত্যা করেছে, সেজন্য তাদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তখন জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে ক্ষমা করে তাদের আবার রাজনীতি করার সুযোগ দেবে কী না।’
নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টিও আকর্ষণ করলেন তিনি। জানালেন, ‘গুপ্তলীগ মিছিল করছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। চব্বিশের পরাজিত আওয়ামী লীগের এদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না বলে মনে করি। নিষিদ্ধ সংগঠন মাঠে নামলেই তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। বিচারের কাঠগড়ায় তুলতে হবে। কোনো সন্ত্রাসী, গুপ্ত সংগঠনের কর্মকাণ্ড আমরা চাই না।’




