চট্টগ্রামে দিনেদুপুরে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

নিহত যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে এক যুবদল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে গুলি করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়।
নিহত যুবদল নেতার নাম মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫)। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। মাসুদুল হক বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই এবং বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাসুদুল। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মাসুদুলের মাথায় গুলি বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়াত হোসেন বলেছেন, ‘বেতাগী ও চৌমুহনী পাশাপাশি এলাকা। মাসুদুলকে চৌমুহনী এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্ত চলছে। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এএসপি বেলায়াত হোসেন আরও বললেন, ‘আগেও এ ধরনের হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, এ ঘটনার পর রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী, রাঙ্গুনিয়া ও পাহাড়তলী এলাকায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করেন।



