চমেকের ৮ নম্বর শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ
শয্যা ২১ রোগী ২৪০

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ— আগামীর সময়
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে ঢোকার মুখে ফটকের বাইরে সারি সারি রোগীর শয্যা। শিশুদের হাতে স্যালাইন লাগানো। কুমিল্লার কসবা থেকে আসা হেলেনা বেগম বললেন, ‘তিন মাসের ছেলেটিকে নিয়ে পাঁচ দিন ধরে আছি এখানে। তার নিউমোনিয়া হয়েছে। এতদিন ভেতরে ছিলাম। গতকাল নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় ওয়ার্ডের বাইরে রাখা হয় আমাদের।’
এভাবে অন্তত ১০ শিশুকে ওয়ার্ডটির ফটকের বাইরে হাঁটাচলার পথে, সিঁড়ি বারান্দা ও সংলগ্ন খালি জায়গা জুড়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসব ডিঙিয়ে ওয়ার্ডটিতে ঢুকতেই মেঝেতে শয্যা পেতে রাখা আছে রোগী। নির্ধারিত আসন যেগুলো রয়েছে, তাতেও গড়ে দুই-তিনজন করে রোগী রাখা আছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স জানালেন, তাদের ইউনিটে অনুমোদিত শয্যা ২১টি। কিন্তু রোগী রয়েছে ২৪০ জন। এত রোগী সামাল দিতে ত্রাহি অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।
শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চারটি ইউনিটের মধ্যে ৩ নম্বর ইউনিটে সোমবার ছিল রোগী ভর্তির নির্ধারিত দিন। নতুন রোগী আসায় অপেক্ষাকৃত সুস্থ শিশুদের ওয়ার্ডের বাইরের করিডরে শয্যা দিয়ে রাখা হয়। ওয়ার্ডের ভেতরে রোগী ও অভিভাবক মিলে এমন গাদাগাদি অবস্থা যে নার্স ও নিরাপত্তাকর্মী অনবরত চিৎকার করে যাচ্ছেন, অভিভাবকদের বাইরে যেতে। কার কথা কে শোনে।
নার্স স্টেশন থেকে বের হয়ে আসার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষ। তার কক্ষে ঢোকার মুখে দুপাশে দুটি শিশু শুয়ে আছে। চিকিৎসক শাহেদুল আলম জানালেন, সোমবার ভর্তির নির্ধারিত তারিখ হওয়ায় রোগী বেড়েছে। খুব খারাপ অবস্থা। এখন হাম এবং ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। রোগীও বেশি আসছে। ১০ গুণ বেশি রোগী ভর্তি করাতে হয়।
বের হয়ে আসার সময় ফটকের বাইরে হেলেনার সঙ্গে আবার দেখা। তিন মাসের শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসে আছেন তিনি। পাশে স্বামী ঘুমাচ্ছেন। এই শয্যার পাশে দুই মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে আছেন পটিয়ার ময়ুরী। ময়ুরী বললেন, ‘মেয়ের নিউমোনিয়া হয়েছে। চারদিন আগে এই ওয়ার্ডে আসি। গতকাল সন্ধ্যায় নতুন রোগী আসার পর বাইরে পাঠিয়ে দেয় আমাদের। বাচ্চা এখন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো।’
ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে সিঁড়ির দিকে পর্যন্ত শয্যা। সিঁড়িপথে যাওয়ার জন্য সরু একটা স্পেস। সিঁড়ির পাশে শয্যায় বসে আছেন লালখান বাজারের সাখাওয়াত। শয্যায় শুয়ে আছে তার আট বছরের ছেলে। হাতে স্যালাইনের নল লাগানো। সাখাওয়াত বললেন, ‘আজ ৯ দিন ধরে জ্বর। কমছে না।’
এর পাশের শয্যায় একজন নারী কান্না করছেন। মহেশখালীর বাসিন্দা ওই নারী জানালেন, তার সাত মাস বয়সী নাতি আদিল এই মাত্র মারা গেছে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আনার আগে কক্সবাজার হাসপাতালে ছিল সে। নিউমোনিয়া হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদিল কয়েকদিন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আইসিইউতে ছিল। সেখানে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে মারা যায়।
শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অপরূপ দাশ জানালেন, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চারটি ইউনিটে পৃথক দিনে ভর্তির নির্ধারিত থাকে। সোমবার ৩ নম্বর ইউনিটে ভর্তি হয় ১৪০ জন নতুন রোগী। শয্যা মাত্র ২১টি। ৩ নম্বর ইউনিটের রোগী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাম ব্লকেও রাখা হয়েছে। নিউমোনিয়া ও হামের কারণে রোগী বেড়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দীন বলেছেন, ‘আজ পুরো হাসপাতালে ৩ হাজার ৮০০ রোগী রয়েছে। শয্যাসংখ্যা ২ হাজার ২০০। শিশু রোগী বেড়েছে বেশি। আমি রোগী ফেরত দিতে
পারব না।’







