‘তোরে ল্যাংটা করে ফেলব’, ওসিকে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা

ছবিতে অভিযুক্ত ওয়াকিল হোসেন বগা
ওয়াকিল হোসেন বগা। ‘বিহারি বগা’ নামেই তাকে চেনে সবাই। পুলিশের তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী। আবার চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাও ছিলেন। অপকর্মের অভিযোগে তিন মাস আগে বহিষ্কার করা হয়। কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জোরোশোরে। এর মধ্যে সম্প্রতি এক কলেজ শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগে নগরীর খুলশী থানায় মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এই মামলা নেওয়ায় খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে অশ্রাব্য ভাষায় হুমকি ও গালিগালাজ করেন ওয়াকিল হোসেন বগা। একপর্যায়ে ওসিকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে ল্যাংটা করে ‘পেটানোর’ হুমকি দেন।
বলেন, ‘তুই…আওয়ামী লীগ। তোরে ধরলে ল্যাংটা করে ফেলব।… তুই আওয়ামী লীগ থেকে কত টাকা খায়ছস বল। তুই চিনস আমি কে? মিথ্যা মামলা কেন দিছস আমার নামে ? ল্যাংটা করে... তোরে।’
এর আগে কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ নগরীর আকবর শাহ থানার ওসিকে ল্যাংটা করে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন। একইভাবে হুমকি দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতাও।
ওসিকে ফোন করে গালাগাল ও হুমকি-ধমকির কথোপকথনটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। একজন পুলিশ অফিসারকে এভাবে গালাগালের দুঃসাহস নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। এ ঘটনায় ওসি আবদুর রহিম থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন গতকাল। এরপর সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
আজ শুক্রবার সকালে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয় পুলিশ। এতে খুলশী থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। ওসির সরকারি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওসিকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার বিষয় স্বীকার করেছেন ওয়াকিল হোসেন বগা। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘খুলশীর ওসি ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডার। একজন কলেজ শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ওসি আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অথচ আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। মিথ্যা মামলা কেন করা হলো সেটা জানতে আমি ওসিকে ফোন করেছিলাম। তিনি মামলা থেকে নাম বাদ দিতে হলে সাত লাখ টাকা লাগবে বলে জানান। তখন আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমি তাকে গালাগাল দিই। কিন্তু উনার টাকা দাবির কথাগুলো কেটে শুধুমাত্র আমার কথাগুলো রেখে ফেসবুকে রেকর্ডটি ভাইরাল করা হয়েছে।’
সাত লাখ টাকা দাবির বিষয়ে ওসি আবদুর রহিম বললেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট কথা। তার সঙ্গে আমার কখনো আলাপও হয়নি। সে ফোন করেই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। সামনাসামনি দেখা হলে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। তখন আমি শুধু বলেছি, আমাকে কোথায় আসতে হবে বলেন।’
নগরীর ওয়্যারলেস কলোনি এলাকার বাসিন্দা ওয়াকিল হোসেন বগা (৪২) চাঁদাবাজি, মাদক, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি। তিনি খুলশী থানা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। এরপর নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সরকারি জমি দখল, গোলাগুলিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তিনি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
ওয়াকিল হোসেন বগা বললেন, ‘আমি মেয়র সাহেবের পলিটিকস করি। আমি পাহাড়তলী ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্য ষড়যন্ত্র করে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার কোনো অপরাধ নেই। মেয়র সাহেবকে বারবার বলি। কিন্তু দেখছেন, দেখবেন বলে আর কিছু করছেন না। আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আমলে ৫৪টা মামলা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এখন। পুলিশ কমিশনার নাকি আমাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ কমিশনারও স্বৈরাচারের দোসর।’
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জমির উদ্দিন নাহিদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘বগা একসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছিল। পরে যেকোনো কারণে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন তার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংগঠনের কোনো মন্তব্য নেই। কোনো দায়ও নেই। এখন সবকিছুর দায়দায়িত্ব একান্তই তার নিজের। রেকর্ডটি আমি শুনেছি। যদিও একজনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে সেখানে। ওসি কী বলেছেন সেটা নেই। তারপরও বলব একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়।’






