খুলশীতে আসামি গ্রেপ্তারে যাওয়া পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে হামলা, আহত ৬

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম নগরীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেনকে গ্রেপ্তারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে ছোড়া হয় ইট-পাটকেল। পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে নগরীর খুলশী থানার ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনাগ্রহী একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, অভিযানের খবর আগেই পৌঁছে যাওয়ায় অনুসারীদের দিয়ে পুলিশকে ঠেকানোর সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন ওয়াকিল।
নগরীর ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় বাড়ি ওয়াকিল হোসেনের (৪২)। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সিএমপির তালিকাভুক্ত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক, বিস্ফোরকসহ ১৭টি মামলা আছে। সরকারি জমি দখল, গোলাগুলিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে পিটিয়ে আহত করে একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে আসামি করে মামলা হয় খুলশী থানায়।
ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম আগামীর সময়কে বললেন, ‘মামলার পর ওয়াকিল ক্রমাগত আমার সরকারি ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে গালিগালাজ করেন। হুমকিও দেন। এ অবস্থায় আমরা তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামি। থানা থেকে বেরিয়ে ১৫-২০ গজ দূরে ওয়্যারলেস কলোনির মোড়ে পৌঁছাতেই দেখি রাস্তায় ব্যারিকেড। কয়েকশ লোক সেখানে। আমাদের গাড়ি আর এগোতে পারেনি। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ও পুলিশ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, কাচের বোতল নিক্ষেপ শুরু করে। ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়।’
‘আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে। ইটের আঘাতে আমি, আমার বডিগার্ড এবং আরও চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমার সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’ – বলেন ওসি।
পালিয়ে যাওয়া ওয়াকিলসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন ওসি আবদুর রহিম।






