চুয়েটে চলছে একদিনের একাডেমিক শাটডাউন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে একদিনের সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার সকাল থেকে চলা এ কর্মসূচিতে বন্ধ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা। একই সঙ্গে রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রমও বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে রুটিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। আজ সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে ই-মেইল পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, দাপ্তরিক কাজে তিনি ঢাকায় আছেন। তার অনুপস্থিতিতে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সন্ধ্যায় দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে তারা জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর নিজেদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। তবে তাদের অবস্থান ছিল, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে তারা মেনে নেননি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেছেন, তাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য নিজে উপস্থিত না থেকে অন্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এ প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহতাব হক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এক দিনের শাটডাউন কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
মাহতাব হক আরও জানিয়েছেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।




