চট্টগ্রাম
মাংস খেতে খেতে বিরক্ত, মাছ সবজির খোঁজে বাজারে

কোরবানির ঈদে একটানা মাংস খাওয়ার পর ভাতের প্লেটের এক কোণায় একটু দেশি মাছের ঝোল কিংবা এক বাটি স্বাস্থ্যকর সবুজ সবজি না হলে যেন তৃপ্তি আসছে না। কোরবানির মাংসের স্বাদ মুখে লেগে থাকলেও রসনাবিলাসে পরিবর্তন খুঁজছেন ভোজনরসিকরা। আর সে কারণেই মাছ ও সবজির বাজারে ভিড় করছে মানুষ।
একপ্রকার অনীহা আর স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই অতিরিক্ত মাংস খাওয়াকে দূরে ঠেলে মাছ আর সবজির দিকে ঝুঁকেছে মানুষ। বিক্রেতারা জানান, ঈদের পরদিন থেকেই মাছ ও সবজি বিক্রি খুব ভালো হচ্ছে।
আজ শুক্রবার সকালে নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজারে দেখা যায়, সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রায় সব মাছের দাম কেজিতে ৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে নদী, পুকুর, খাল ও লেকের মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাজারে এখন রুই, কাতলা ও কালিবাউস মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ ৩০০ টাকা, সরপুঁটি ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা এবং লইট্টা ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিতল ৭০০ টাকা, সুরমা ৭০০ টাকা, কালা চান্দা ৭৫০ টাকা, লাল পোপা ৬০০ টাকা, লাল কোরাল ৮০০ টাকা, চাপিলা ৮০০ টাকা, লইল্যা চিংড়ি ৯০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ১০০০ টাকা, চকরিয়ার ভেটকি কোরাল ১০০০ টাকা, রুপচাঁদা ১১০০ টাকা এবং ইলিশ প্রায় দেড় কেজি ওজনের ২৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ ফিরোজ জানালেন, 'ঈদের পরের দিন থেকেই বেচা-বিক্রি খুব ভালো হচ্ছে। মানুষ পুকুর ও নদীর মাছ বেশি কিনছে। সাগরে মাছ ধরা শুরু হলে দামও কমে আসবে।'
সবজি বাজারেও ক্রেতাদের কমতি নেই। তবে সরবরাহ সংকটে দাম কিছুটা চড়া। সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ আজম জানান, চাহিদা প্রচুর, কিন্তু সরবরাহ কম। তাই দাম এখন কিছুটা বাড়তি। সবকিছু পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
বাজারে এখন প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ও ছড়া ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, দেশী টমেটো ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, ফুলকপি ১৬০ টাকা, বাঁধাকপি ১৮০ টাকা এবং ধনেপাতা ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিপরীতে, কোরবানির পর গরুর মাংসের সবকটি দোকান বন্ধ দেখা গেছে। তবে স্বল্প সংখ্যক দোকানে খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজির দাম ১২৫০ টাকা। অপরদিকে মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে ৫০ টাকা কমে দেশি মুরগি ৬৮০ টাকা। সোনালী মুরগি ৩৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
তবে ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়। এছাড়া সব ধরনের ডিমের দাম ডজনে প্রায় ১০ টাকা কমেছে। বাজারে এখন ফার্মের ডিম ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৯০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে এসে মিজানুর রহমান জানালেন, 'ঈদের পর থেকে মাংস দেখতে দেখতে মাংস খাওয়ার ইচ্ছে কমে গেছে। তাই বাজারে এসেছি অন্য আইটেম কিনতে। আরেক ক্রেতা মোহাম্মদ মহসিন বললেন, 'টানা মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই সবজি আর মাছের বিকল্প নাই।'




