দুই এমপির সামনে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

চট্টগ্রামে দুই এমপির সামনে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিএনপি ও জামায়াতের দুই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে তার দলের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা বেস্টনি তৈরি করে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে জামায়াতের দাবি, পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা গুজব ছড়াচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনার সময় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য শামীম আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, সরকারি দলের চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগম দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। এসময় বিএনপির স্থানীয় শতাধিক নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি পরিদর্শন শেষে বেরিয়ে আসার সময় ওই আসনের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী দলটির শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন।
শাহজাহান চৌধুরী প্রবেশের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা স্লোগান দিতে থাকেন। জবাবে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দিতে থাকলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কেউ কেউ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যেই শাহজাহান চৌধুরী সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগমকে ফুল দিতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা দেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগমের গাড়ি রাখা ছিল। এর পাশের শাহজাহান চৌধুরীর গাড়ি। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে এগিয়ে নিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী আগামীর সময়কে বললেন, ‘দুই দলের দুজন সংসদ সদস্য একইসময়ে উপস্থিত ছিলেন। উনাদের সঙ্গে প্রচুর নেতাকর্মীও আসেন। লোকাল এমপি যিনি আছেন তিনি শেষে আসেন। তখন কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয় উভয়পক্ষে। পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’
রাতে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর কামাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি তারেক হোসাইন এক বিবৃতিতে বললেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পলাতক স্বৈরাচারের দোসর কিংবা যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য এমন গুজব ছড়াতে পারে।
শাহজাহান চৌধুরী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগমকে স্বাগত জানাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাতাহাতিতে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না। অন্য কোনো পক্ষের দায় জামায়াতের ওপর চাপানো হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে শাহজাহান চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চলছে।



