রাউজানে যুবদল নেতা খুন
নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় হত্যা, অভিযোগ পরিবারের

যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছে তার পরিবার। এতে চট্টগ্রাম দাপিয়ে বেড়ানো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলমকে প্রধান করে মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে নিহত মাসুদুলের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন রাউজান থানায় এ মামলা করেন।
মামলায় মাসুদুলের পরিবারের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় হত্যার শিকার এই যুবদল নেতা।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বললেন, ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পাঁচ অস্ত্রধারীসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাঁচজনের বাইরে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা ব্যাকআপ টিমের সদস্য হিসেবে ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। যদিও তাদের অবস্থান সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।’
গত শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম উত্তরের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাসুদুলকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন তিনি। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নে। মামলার বাদী পেয়ারুল ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।
বাজারের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যে দেখা গেছে, মূল কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছেন পাঁচ অস্ত্রধারী। কালো মুখোশ পরা একজনের হাতে শটগান দেখা গেছে। তিনজনের হাতে পিস্তল এবং আরও একজনের হাতে শটগান ছিল। গুলিবর্ষণের মুখে মাসুদুল দৌড়ে একটি দোকানের সামনে এসে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তিন অস্ত্রধারী পেছন থেকে এসে লুটিয়ে পড়া মাসুদুলকে আবারও গুলি করে। এর ২০ সেকেন্ড পর মুখোশ পরা অস্ত্রধারী এসে আবার মাসুদুলকে গুলি করে দ্রুত চলে যায়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে অস্ত্রধারীরা একটি অটোরিকশায় উঠে চলে যায়।
কিলিং স্কোয়াডের পাঁচ সদস্যকে শনাক্ত করে পুলিশ। তারা হলেন মুহাম্মদ মোবারক, দিদার আলম, ইলিয়াছ প্রকাশ ধামা ইলিয়াছ, মোহাম্মদ আবছার ও মোহাম্মদ ইউসুফ। মামলার এজাহারে এদের নাম আছে। তাদের বাড়ি রাউজানে।
এছাড়া প্রধান আসামি রায়হান আলম রাউজান উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব রাউজানের মোহাম্মদ বদিউল আলমের ছেলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রায়হান নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
আসামিদের মধ্যে আরও আছেন মোহাম্মদ পারভেজ, মোহাম্মদ আইয়ূব, জাহেদ, জাকির ও রায়হান। তাদের মধ্যে জাকিরকে পুলিশ গত রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করে। আর রায়হানকে অন্য এক ডাকাতির মামলায় র্যাব গ্রেপ্তার করে। তাকেও মাসুদুল খুনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানায় পুলিশ।
আসামিরা সবাই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মামলায় বাদীর অভিযোগের বিষয়ে ওসি সাইফুল ইসলাম জানালেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এলাকায় মাসুদুল হক চৌধুরীর ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। এরপর তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে তার শত্রুপক্ষ সৃষ্টি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী শত্রুপক্ষ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন বাদী। আমরা এ অভিযোগ তদন্ত করে দেখছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’




