অস্থির সমাজ বিভ্রান্তিকর বাস্তবতার কবলে: আবুল মোমেন

নানামুখী আগ্রাসনে সমাজ অস্থির হয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তিকর বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি প্রয়াত ডা. চন্দন দাশের শোকসভায় তিনি একথা বলেছেন।
বাংলাদেশকে নানামুখী আগ্রাসী আক্রমণের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে আবুল মোমেন বললেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুঁজিবাদ রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। যেখানে-সেখানে যুদ্ধ বাধানো হচ্ছে। নানা কায়দায়, নানা কৌশলে এক ধরনের আগ্রাসী আক্রমণ আমাদেরও সহ্য করতে হচ্ছে। আমরা নতুন ঔপনিবেশিক ব্যবস্থাপনা দেখতে পাচ্ছি।’
‘অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র তার উপনিবেশ বানানোর বিষয়টা বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার এমন একটা বাণিজ্যচুক্তি করে গেছে, এর মধ্য দিয়ে আমরা নিজেরাই এ আক্রমণের মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা গম কার কাছ থেকে কিনব, চাল কার কাছ থেকে কিনব— এটিও আরেক রাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হবে।’
এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থার নানামুখী কর্মকাণ্ডে সমাজের মানুষের মধ্যে আপসকামী মনোভাব তৈরি হয়েছে বললেন তিনি, ‘নানাভাবে নানা কৌশলে নানাকিছু দিয়ে সমাজের নানা দ্বন্দ্বগুলোকে স্তিমিত করে ফেলা হয়েছে। সমাজটা অস্থির হয়ে গেছে। একটি বিভ্রান্তিকর বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। কে যে আসল আর কে যে নকল তা বোঝা দায় হয়ে গেছে। সহজেই কাউকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। আদর্শ, মান, চিন্তাচেতনার গভীরতা এসব কোনো বিষয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে না।’
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ৬০-৭০-এর দশকের মতো করে সমাজে বাঙালি জাতিসত্তার জাগরণ তৈরির কাজ শুরুর তাগিদ দিলেন আবুল মোমেন।
সভায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ সেলিম অভিযোগ করলেন, মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে বিভক্তি তৈরি করে দেশে প্রগতিশীল সংগঠনগুলোকে দুর্বল করা হচ্ছে।
সেলিমের ভাষ্য, ‘ছাত্র ইউনিয়নের মতো প্রবল পরাক্রমশালী সংগঠনকে ভাগ করা হয়েছে। মববাজি করে উদীচীকে দুই ভাগ করা হয়েছে। খেলাঘর আগে থেকেই দুইভাগ হয়ে আছে। সেটাকে এক করতে চেয়েছিলাম। তখন প্রভাবশালী নেতা ফতোয়া দিয়েছিলেন, আলাদাভাবে বিকশিত হোক। এসব যে মেটিকুলাস ডিজাইন সেদিন আমরা অনেকে বুঝতে পারিনি বা বুঝতে চাইনি। আমাদের সম্মিলিত নির্লিপ্ততার মাশুল আমাদের ভয়ংকরভাবে গুনতে হচ্ছে।’
নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি প্রবাল দে। সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশগুপ্তা ও সদস্য শিমুল সেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির প্রাক্তন সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ইন্দুনন্দন দত্ত, প্রাবন্ধিক সুভাষ দে, কবি ওমর কায়সার ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী।




