ই-পাসপোর্ট প্রতারণার সেই ভুয়া ওয়েবসাইট বন্ধ, তদন্তে কর্তৃপক্ষ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব শূন্য করার ঘটনায় ব্যবহৃত ভুয়া ওয়েবসাইটটি বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার আগামীর সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সহায়তায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নাগরিকদের তথ্য ফাঁসের মূল উৎস বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে আগের ওয়েবসাইটটি বন্ধ করা হলেও প্রতারক চক্রটি নতুন ডোমেইন ব্যবহার করে ফাঁদ পেতেছে। পুরনো ‘pass.correction-center.sbs’ ওয়েবসাইটের বদলে চক্রটি এখন ‘nid.correction-center.sbs’ নামে নতুন একটি ঠিকানায় একই কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মামুন বলেছেন, ‘কোনো ডোমেইন সরাসরি বন্ধ করার এখতিয়ার আমাদের নেই। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে (বিটিআরসি) আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে আগের ভুয়া সাইটটি এরই মধ্যে বন্ধ করা হয়েছে।’
তথ্য ফাঁসের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এর মূল কারণ বা উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবেদনকারীর কাছে একটি এসএমএস পাঠায় চক্রটি। এতে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে নামের মিল না থাকায় আবেদন আটকে আছে। এসএমএসে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের হুবহু নকল একটি পেজ আসে। সেখানে নাম সংশোধনের কথা বলে ৯ টাকা ফি চাওয়া হয়। ‘পে অ্যান্ড প্রসিড’ অপশনে ক্লিক করলে হুবহু বিকাশের পেমেন্ট গেটওয়ের মতো একটি পেজ চালু হয়। সেখানে গ্রাহকের বিকাশ নম্বর, ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) ও পিন নম্বর চাওয়া হয়। গ্রাহক ৯ টাকা পরিশোধের জন্য ওটিপি দিলে মূলত তার বিকাশ হিসাবে ‘অটো ডেবিট’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়ার অপশন চালু হয়ে যায়। গ্রাহকের মোবাইল ফোনে আসা বিকাশের প্রকৃত খুদে বার্তায় দেখা যায়, ‘মাইসার্কেল’ (MyCirkle) নামে একটি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের জন্য এই অটো ডেবিট চালু করার অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। ৯ টাকা ফি দেওয়ার তাড়াহুড়ায় গ্রাহকরা বার্তার এই অংশটি খেয়াল না করেই ওটিপি বসিয়ে দেন। আর এতেই প্রতারকরা গ্রাহকের হিসাব থেকে বারবার টাকা সরিয়ে নেওয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়।



