বন্যা পরবর্তী সংক্রামক রোগের প্রকোপ ঠেকাতে প্রস্তুত সরকার : চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জরুরি ত্রাণ বিতরণ সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র; সরকারের আসল লক্ষ্য বন্যা-পরবর্তী টেকসই পুনর্বাসন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করা। পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের এই তৎপরতা মাঠপর্যায়ে অব্যাহত থাকবে।
আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। পতেঙ্গার কর্মসূচি শেষে অর্থমন্ত্রী চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে গিয়ে দিনভর বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বন্যা-পরবর্তী প্রস্তুতি ও পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন। তিনি বলেছেন, ‘ত্রাণ কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আমরা দ্রুতই মূল পুনর্বাসন কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। বন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃষিখাতে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে।’
যাদের নতুন করে বীজ, সার বা অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রয়োজন, তাদের তালিকা করে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তা সরবরাহ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। ঘরবাড়ি হারানো ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে।
বন্যা নেমে যাওয়ার পর সাধারণত বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ-ব্যাধির প্রকোপ দেখা দেয়। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসা দল ও স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
যেকোনো ধরনের সংক্রামক রোগ বা মহামারি দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘ইনশাআল্লাহ, চিন্তার কোনো কারণ নেই। সর্বপ্রকার প্রস্তুতি নেওয়া আছে এবং কাজ অব্যাহত আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত পুনর্বাসনের কাজ শেষ না হয়, ততক্ষণ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।’
ক্ষয়ক্ষতি ও চলমান ত্রাণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে এবারের বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের কাছে জরুরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪০ হাজার পরিবারকে চাল দেওয়া হয়েছে এবং ৭৫ হাজার পরিবারকে শুকনা চাল, ডালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘরবাড়ি জলমগ্ন থাকায় রান্না করতে না পারা প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরাসরি রান্না করা খাবার খাওয়ানো হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রীর দিনব্যাপী এই সফর ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে তার সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




