পাহাড়ধসে মৃত্যুর পর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা

পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা- আগামীর সময়
টানা ৯দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনার পর আজ সোমবার পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি তাদের সভা করেছে। এক বছরের বেশি সময় পর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ব্যবস্থাপনা কমিটির ৩২তম এই সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভায় চট্টগ্রামের পাহাড় টিলার অতীত ও বর্তমানের চিত্র সম্বলিত জরিপের জন্য একটা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিকাল ৩টার দিকে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। প্রতি বছর সাধারণত বর্ষা মৌসুমের আগেই পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির ব্যবস্থপনা সংক্রান্ত সভাটি হয়ে আসছে এতদিন। শেষবার ৩১তম সভাটি হয়েছিল গত বছরের ২৬ মে, বর্ষার আগে আগে।
এবার গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়ালধসে চারজন মারা গেছেন। এ ছাড়া কক্সবাজার এবং বান্দরবানে পাহাড়ধসে মারা গেছেন আরও অন্তত ২৫জন। পাহাড় ধসের আশঙ্কা এবং সতর্কবার্তার পরও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরানো যায়নি বলে এসব ঘটনা বারবার ঘটছে। এ নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়টি উঠেছে আজকের সভায়।
চট্টগ্রামের উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) কার্যালয়ের পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা সভায় বলেছেন, ‘সভাটি এপ্রিল কিংবা বর্ষা শুরু হওয়ার আগে আগে করলে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়। এবার ইতোমধ্যে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ধসও হয়েছে। সামনের সময় থেকে এই বিষয়টা মাথায় রেখে শীতের সময় সভা করে আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে ভালো হয়।’
বিভাগীয় কমিশনার অবশ্য তিন মাস পরপর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বানের কথা জানান।
চট্টগ্রামে কি পরিমাণ পাহাড় রয়েছে কিংবা আগে কত ছিল এসব বিষয়ে জরিপের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ জরিপ কমিটি করা হয় এই সভায়। পাশাপাশি পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার তালিকা হালনাগাদের জন্য পাহাড়ের মালিকদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান বিভাগীয় কমিশনার।
এই জরিপ কমিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, বন ও পরিবেশবিদ্যা এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এই কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিনিধিকে যুক্ত করা হবে।
সভায় পাহাড়ের অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বিদ্যুৎ ও পানিসহ সেবা সংযোগের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। কীভাবে ওখানে সেবা সংযোগ পায় উচ্ছেদ অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়।
এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার বলছিলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ের দখলদার নিজের নামে বিদ্যুতের বিল বানিয়ে ফেলেছেন। সে নিজে বসবাসকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুতের বিল তোলে। এটাতো রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করা। বিদ্যুৎ ও ওয়াসার এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিসি ট্রাফিক লিয়াকত আলী খান, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা, রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নূর এ জান্নাত রুমি, সিটি করপোরেশনের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট শোয়েব উদ্দিন খান, সিডিএর নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ইশা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের পর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তার আহ্বায়ক করা হয় বিভাগীয় কমিশনারকে। এ পর্যন্ত কমিটি ৩২টি সভা করেছে। তবে আজকের সভায় কক্সবাজার ও বান্দরবান কিংবা অন্য জেলার প্রতিনিধিদের অনলাইনে যুক্ত করা হয়নি। এই দুই জেলায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবার।





