নিষিদ্ধ করতে চাওয়া জাপা নেতার বাড়িতে নাহিদ-হাসনাত
- এনসিপির স্থানীয় নেতাদের দাবি, মাহমুদুল ইসলামের বাড়ি জানতেন না তারা

সংগৃহীত ছবি
আওয়ামী লীগ আমলে বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনের সহযোগী জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানানোর পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশে মাঠ গরম করেও তুলেছিল।
কিন্তু এক বছরের মাথায় দেখা গেল, বন্যায় ত্রাণ দিতে চট্টগ্রামে এসে সেই জাতীয় পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতেই উঠলেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। একদল নেতাকর্মী নিয়ে খেলেন। রাতযাপনও করলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এনসিপি নেতাদের ছবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
জাতীয় পার্টির ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন প্রবীণ রাজনীতিক মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘খান বাহাদুর বাড়ির’ সন্তান। তার বাবা প্রয়াত খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী।
মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে একবার এবং পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি থেকে আরও দুইবারসহ মোট তিন দফা বাঁশখালীর সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতা হিসেবে তিনি বেশ আলোচিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আর দৃশ্যপটে নেই তিনি। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বললেন, ‘মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী সাহেব আমাদের প্রেসিডিয়াম সদস্য। সিনিয়র মোস্ট লিডার। প্রাজ্ঞ রাজনীতিক। আমরা উনাকে খুবই সম্মান করি। কিন্তু অনেকদিন ধরে কোনো মিটিংয়ে আসছেন না। আশা করি আবার সক্রিয় হবেন।’
‘খান বাহাদুর বাড়িতে’ এনসিপি নেতাদের আদর-আপ্যায়ন নিয়ে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী সমলোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন। ব্যারিস্টার পাটোয়ারী বিষয়টি জানার পর বললেন, ‘আমরা দলের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেব।’
এনসিপি নেতাদের যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকে জানতেন না বলে দাবি করলেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘এটা তো আমার একার বাড়ি না। আমাদের ছয় ভাইয়ের যৌথ বাড়ি। আমরা কেউ গ্রামের বাড়িতে থাকি না। যা-ই হোক, সেখানে যে এনসিপি নেতারা যাবেন আমাকে কেউ আগে থেকে বলেনি। যাবার পর জেনেছি। আমার ছোট এক ভাই আমেরিকা থাকে। শুনেছি তার সঙ্গে এনসিপি নেতারা যোগাযোগ করে আমাদের বাড়িতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সে তাদের থাকার অনুমতি দেয়।’






