আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা, সহকর্মীর আবেগঘন সাক্ষ্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন আইনজীবী শহিদুল আলম রাহাত। সহকর্মীর স্মৃতিচারণ করে কান্না করছিলেন তিনি। এ সময় আদালতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী শহিদুল আলম রাহাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার অন্যতম আসামি কারাবন্দি সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বললেন, ‘দ্বিতীয় সাক্ষী আবেগঘন সাক্ষ্য দিয়েছেন। কয়েকজন আসামির পক্ষে জেরা সম্পন্ন হয়েছে। তবে চিন্ময় দাসের পক্ষে জেরা হয়নি। অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা চিন্ময়ের একটি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। বিষয়টি উল্লেখ করে তার আইনজীবী সাক্ষীকে জেরার জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে ২০ আগস্ট জেরার পরবর্তী সময় নির্ধারণ করেছেন।’
একই কারণে মামলার প্রথম সাক্ষী নিহতের বাবা জামাল উদ্দিনকেও জেরা করেননি চিন্ময়ের আইনজীবী। রায়হানুল ওয়াজেদের ভাষ্য, ‘ছয়বার জেরার জন্য সময়ের আবেদন করেন তার আইনজীবী। সপ্তমবার আবেদন করলে আদালত সেটা নামঞ্জুর করে সাক্ষ্য সমাপ্ত করার আদেশ দেন।’
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মামলার ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ১২ জন এখনো পলাতক। ২৭ জন কারাগারে।
নিহত আইনজীবী আলিফের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি খুন হন।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে ত্রাস সৃষ্টি করেন তার অনুসারীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে তারা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পরে নগরীর লালদীঘির পাড় থেকে কোতোয়ালী এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় আইনজীবী আলিফকে আদালত প্রাঙ্গণের অদূরে নগরীর বান্ডেল সেবক কলোনির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
জামাল উদ্দিনের আবেদনের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে কারাবন্দি চিন্ময়কে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৫ সালের ১ জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।




