‘মৃত্যুশয্যায়’ মা: চিন্ময়ের প্যারোলের আবেদন, কর্তৃপক্ষের ‘না’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি (প্যারোল) দেওয়ার আবেদন করেছে তার পরিবার। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, কারও অসুস্থতার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিধান নেই।
আজ বুধবার চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে এ আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিও।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক আগামীর সময়কে বললেন, ‘স্বজন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তির বিধান আছে। অসুস্থ অবস্থায় কাউকে দেখার জন্য প্যারোল পাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি উনাদের (চিন্ময়) পরিবারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।’
প্যারোল নিয়ে ২০১৬ সালে প্রণীত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো নিকটাত্মীয়ের (বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তান) মৃত্যু হলে ধর্মীয় কার্যে অংশ নিতে বা শেষ বিদায় জানাতে বন্দিকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া যাবে। তবে এর সময়কাল ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না।
রঞ্জন কুমার ধর আগামীর সময়কে জানালেন, তিন ভাই এক বোনের সবার ছোট চিন্ময়। তাদের মা সন্ধ্যা রাণী ধরের বয়স ৭১। হৃদরোগ, ফুসফুসে সংক্রমণ, নিম্ন রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিল রোগে তিনি আক্রান্ত। প্রায় এক মাস ধরে তিনি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
‘ডাক্তার বলেছেন, আমার মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। গত শনিবার থেকে উনাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। যখন কিছুটা কথা বলতে পারছিলেন তখন আমার মা তাকে (চিন্ময়) একবার দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এজন্য শেষবারের মতো মাকে দেখতে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।’
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। তাদের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়। আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সাবেক সংগঠক চিন্ময়। সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্রও।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন চিন্ময়। পরদিন তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ আসে। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আদালত-সংলগ্ন পাথরঘাটা বাণ্ডেল রোডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী আলিফ হত্যাসহ চিন্ময়ের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার চলছে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। পাঁচটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।






