অধ্যাপক সায়েমের মুখাবয়ব আঁকা ছবি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল

চুয়েট শিক্ষার্থীদের মিছিল
সাদা কাগজে আঁকা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের মুখাবয়বের ছবি। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) হাজারো শিক্ষার্থী সেই ছবি মুখের সামনে ধরে মিছিল করলেন।
গত ৮ দিনের আন্দোলনে এমন ব্যতিক্রমী কর্মসূচি আরও করেছেন তারা। শ্বেতশাড়িতে গণসাক্ষ্য, ৫৬ ?- লিখে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমা প্রদর্শনসহ এমন আরও কর্মসূচি।
আন্দোলনকারীরা বললেন, নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় ‘অপসারিত’ হওয়া সদ্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমের প্রতি সম্মান ও সমর্থন জানানো এবং তাদের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা এমন ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে মিছিল নিয়ে স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত যান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার, আর কোনো দাবি নাই—সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ বলে স্লোগান দেন। মিছিল শেষে তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে অধ্যাপক সায়েমের ছবি সরিয়ে নিজেদের চুয়েটের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন।
শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী নাবিলা রাইসা। বার্তায় চুয়েটের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।
আন্দোলনের অষ্টমদিনে আজ মঙ্গলবারও আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন। সকাল থেকে তারা তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বন্ধ একাডেমিক-প্রশাসনিক সকল ধরনের কার্যক্রম।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় আকস্মিক এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিস্মিত ও হতাশ হন। পরদিন থেকেই ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু হয়।



