চট্টগ্রামে প্রতিবাদ মিছিল
‘নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের স্থান নেই’

ছবি: আগামীর সময়
ফ্যাসিবাদী অপশক্তির সন্ত্রাস-দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে মহানগর বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।
আজ শুক্রবার বিকাল চারটায় নগরীর ঐতিহাসিক জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে ব্যানার-ফেস্টুনসহ নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে যোগ দেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল জামিয়াতুল ফালাহ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জিইসি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বললেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করে জনগণের মৌলিক ও ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। গুম, খুন, নির্বিচার লুটপাট ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সেই অপশাসনের পক্ষে যারা যুক্ত ছিল, তাদের অপতৎপরতা এখনো থেমে নেই। তারা নতুন করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।’
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বললেন ‘নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো স্থান নেই। সচেতন জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারবে না। যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও সহিংসতা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে থেকেই প্রতিহত করা হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান জানালেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটলেও পরাজিত শক্তির দোসররা এখনো নানা রূপ নিয়ে সক্রিয়। একটি বিশেষ মহল বর্তমান সরকারের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সারা দেশে নাশকতা ও খুন-খারাবির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক সচেতন, এই ধরনের চক্রান্ত আর কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না।’
আরেক বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান তার বক্তব্যে বললেন, ‘অতীতে গুম, খুন ও লুটপাটের রাজনীতি করে স্বৈরাচাররা দেশকে যে গভীর সংকটে ফেলেছিল, তার ক্ষত এখনো পুরো সমাজে বিদ্যমান। পরাজিত শক্তি রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করার নানামুখী ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়া হবে।’
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম রাসেলসহ বিভিন্ন স্তরের অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।




