‘২০ লাখ টাকা না দিলে তোর ছেলেকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলব’

প্রতীকী ছবি
‘আমি বড় সাজ্জাদের লোক। রায়হানের লোক। তুই মাসে ২৫ লাখ টাকা ইনকাম করিস। ২০ লাখ টাকা দিতে হবে তোকে। না হলে তোর ছেলেকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলব। তোর মেয়ে কলেজে কীভাবে যায় দেখব।’
চট্টগ্রামের মাকসুদ রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে ফোন করে এভাবেই চাঁদা দাবি করা হয়েছে। গত চার দিন ধরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ক্রমাগত তাকে কল দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানায় আজ বৃহস্পতিবার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মাকসুদের স্ত্রী মাহফুজা খানম রুনা।
মাকসুদ রহমান নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার মোজাফফর নগরের বাসিন্দা। বাবা মোজাফফর আহম্মদ চৌধুরী। মাকসুদের এম কে চৌধুরী ট্রেডিং অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টস নামে একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠান আছে। রিয়েল এস্টেটসহ আরও বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত তিনি।
মাকসুদ রহমান আগামীর সময়কে বললেন, ‘এক মাস আগে আমাকে একবার কল করেছিল হোয়াটসঅ্যাপে। আমি নাকি কোটি কোটি টাকার মালিক। আমাকে চাঁদা দিতে বলা হয়। আমি পাত্তা দিইনি। এরপর গত ৩১ আগস্ট সকালে একবার কল দেয়। আমি গালিগালাজ করে কল কেটে দিই। পরদিন সকালে আবার কল দিলে আমার স্ত্রী রিসিভ করেন। তখন বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের লোক পরিচয় দিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমরা সেটা রেকর্ড করে রাখি।’
‘এরপর হোয়াটসঅ্যাপে আমার ছেলের ছবি পাঠায়। ছেলেকে তুলে নিয়ে যাবে, মেয়ের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিতে থাকে। আমার স্ত্রী অনেক অনুরোধ করেছে কোনো ক্ষতি না করার জন্য। তারা ২০ লাখ টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলবে বলে জানায়। পুলিশকে জানালে পুরো পরিবারের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। এভাবে আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা অনবরত কল দিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জিডি করেছে আমার স্ত্রী’— যোগ করলেন মাকসুদ রহমান।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা কামাল আগামীর সময়কে বললেন, ‘জিডি হয়েছে। চারটি বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক সময় সন্ত্রাসী সাজ্জাদ-রায়হানের নাম ব্যবহার করে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
বিদেশে পলাতক ‘দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার’ সাজ্জাদ আলী খান। বড় সাজ্জাদ হিসেবে তার পরিচিতি বেশি। গত দুই বছরে চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদ ও তার অনুসারীদের চাঁদাবাজির একাধিক ঘটনা পুলিশের রেকর্ডে আছে। এর মধ্যে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদার জন্য গুলিবর্ষণের ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।





