দেশি প্রতিষ্ঠানকেও ইজারার বিরুদ্ধে ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি কিংবা বিদেশি—কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছেই ইজারা না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি’।
এর আগে বিভিন্ন সংগঠন কেবল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করে আন্দোলন করে আসছিল। তবে এবারই প্রথম দেশি প্রতিষ্ঠানের কাছেও ইজারা না দেওয়ার স্পষ্ট দাবি উঠল।
সংগঠনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, ‘দেশি-বিদেশি দুই লুটেরাই শ্রমিক শোষণ করছে। আন্দোলনের নামে কেউ কেবল বিদেশি লুটেরা ঠেকাচ্ছে, আবার কেউ দেশি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশি-বিদেশি দুই লুটেরাই শ্রমিক শোষণ ও লুটপাট চালাচ্ছে। আমরা এই দুয়েরই বিরুদ্ধে। দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দরটি অন্তত কোনো ইজারা না দিয়ে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিচালনা করা হোক।
তার শঙ্কা, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর ও বঙ্গোপসাগর নিয়ন্ত্রণে একটি ভৌগোলিক (জিওগ্রাফিক্যাল) ষড়যন্ত্র চলছে। এখানে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো কে কোন ফরম্যাটে কার স্বার্থ রক্ষা করছে, তা ধোঁয়াশাময়। এখনই সতর্ক না হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যরা এর আগে ভিন্ন প্লাটফর্মে থেকে আন্দোলন করে চট্টগ্রাম বন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘এসএস পোর্ট’র ইজারা প্রক্রিয়া রুখে দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতায় এবার সেই সদস্যরা নতুন এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করে বন্দরের টার্মিনাল ইজারা ঠেকানোর আন্দোলনে নেমেছেন।
সংগঠনের সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু জানান, বন্দরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার বিষয়টি কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এটি সরাসরি জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দুবাই ভিত্তিক ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ কিংবা অন্য কোনো দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের সচেতন সমাজ তা মেনে নেবে না।
কমিটির নেতৃবৃন্দ মনে করিয়ে দেন, চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ইস্টার্ন রিফাইনারি ও প্রধান জ্বালানি সংরক্ষণাগারসহ একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত রাষ্ট্রীয় স্থাপনা রয়েছে। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একই সঙ্গে সংগঠনটি পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল, পানগাঁও টার্মিনাল এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানায়। এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকায় ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’র সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি।




