ঢাকা থেকে বের হতেই দুই ঘণ্টা, গাড়ির গতি মানুষের হাঁটার সমান

যানজটে স্থবির মাইক্রোবাস থেকে দেখা ঢাকার সড়ক। ছবি: আগামীর সময়
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২৪২ কিলোমিটার। চার লেনের মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগার কথা চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়ে শুধু ঢাকার সীমানা পার হয়ে কাঁচপুর সেতুতে পৌঁছাতেই সময় লেগেছে পাক্কা দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট। অর্থাৎ যাত্রার শুরুতেই মূল সময়ের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর ভেতরের যানজটে।
বুধবার সকালে গুলশান থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে একটি মাইক্রোবাসে যাত্রা শুরু করে সামনে আসে এই দুর্ভোগের চিত্র।
২০ কিলোমিটারে ১০ জায়গায় যানজট
সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে গুলশান থেকে যাত্রা শুরু করে মাইক্রোবাসটি হাতিরঝিল, মেরুল বাড্ডা, প্রগতি সরণি, ডিআইটি রোড, পশ্চিম রামপুরা, পশ্চিম হাজীপাড়া, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, অতীশ দীপঙ্কর রোড, বাসাবো ও যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া হয়ে পৌঁছায় কাঁচপুর সেতুতে। গুগল ম্যাপ অনুযায়ী গুলশান থেকে কাঁচপুর সেতুর দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার, যা স্বাভাবিকভাবে আধ ঘণ্টার বেশি লাগার কথা নয়। কিন্তু সেই পথ পেরিয়ে সেতুতে পৌঁছাতে ঘড়ির কাঁটায় বাজে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট।
পুরো পথে অন্তত ১০টি স্থানে পড়তে হয় স্থবির যানজটের মুখে। কোথাও ১০ মিনিট, আবার কোথাও গাড়ির চাকা থমকে টানা আধ ঘণ্টারও বেশি সময় বসে থাকতে হয় যাত্রী ও চালকদের।
গতি নেমে এসেছে হাঁটার কাছাকাছি
যাত্রার হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০ কিলোমিটার পথ পেরোতে মাইক্রোবাসটির গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় মাত্র ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার। একজন সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক হাঁটার গতি ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার। অর্থাৎ মহাসড়কে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলার কথা যে আধুনিক মাইক্রোবাসের, ঢাকার যানজট তার গতি নামিয়ে এনেছে প্রায় মানুষের হাঁটার পর্যায়ে।
এই মাইক্রোবাসের যাত্রী ফোরকান এলাহী পুরোটা পথ বিরক্তি চেপে রাখতে পারেননি। জানালার বাইরে থমকে থাকা গাড়ির সারির দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, ‘গাড়িতে বসে ঘড়ি দেখছিলাম আর হিসাব কষছিলাম, হেঁটে গেলেও বোধ হয় এতক্ষণে পৌঁছে যেতে পারতাম। এটা কোনো যাত্রা হলো? একটা শহরের ভেতর থেকে বের হতেই যদি দুই ঘণ্টা লাগে, তাহলে বাকি দেশটা কীভাবে চলে, বুঝি না।’
দীর্ঘ সময় স্থবির থাকার পর মাঝেমধ্যে গাড়ি সামান্য এগোলে তিনি বললেন, ‘এই কয় গজ এগোনোর জন্যও আধা ঘণ্টা বসে থাকতে হলো। ঢাকার বাইরেই তো এখনো যেতে পারলাম না, অথচ মনে হচ্ছে অর্ধেক জার্নি শেষ।’
চালকের ভাষ্যে যানজটের কারণ
ঢাকার সড়ক থেকে বের হতে এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পেছনের কারণ তুলে ধরেছেন মাইক্রোবাসের চালক মো. শরীফ। তিনি বলেছেন, ‘অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি পুরো ঢাকার সড়ক দখল করে রেখেছে। গলির অবৈধ ধীরগতির যানগুলো মূল সড়কে উঠে এসে গতির চাকা স্তব্ধ করে দেয়। এর ওপর যোগ হয়েছে মোড়ে মোড়ে বাসগুলোর এলোপাতাড়ি প্রতিযোগিতা। নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া মাঝরাস্তায় আড়াআড়ি করে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। ফলে একটি বাস থামলেই পেছনে শত শত গাড়ি আটকে যায়।’






